কক্সবাজারে শীর্ষ আওয়ামী নেতাদের বিপুল সম্পদ, অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মানবতার শত্রু ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পলায়ন করলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই খুনি হাসিনার দোসরদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জড়ো হয়ে গোপনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কক্সবাজারে খুনি হাসিনার ক্যাডার মুজিব চেয়ারম্যান,মহেশখালীর ত্রাস মকসুদ মিয়া,ডাকাত হিসেবে অভিহিত বাইট্টা জাফর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ উকিল ওরফে বিল্ডিং ফরিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতা মোজাম্মেল হকের ৪ সন্তান,জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল , চকরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ শেখ হাসিনার দোসররা অধরা থেকে গেছে।

শুনা যাচ্ছে তাদের আঙুলী হেলনে এখনো চলছে কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমনি প্রেক্ষাপটে জেলার ত্যাগী স্বাধীনতা সংগ্রামী সমন্বয়করা দাবি তুলেছেন খুনি হাসিনার অধরা ক্যাডারদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা প্রয়োজন। একজন সমন্বয়ক বলেন, জেলা থেকে পলাতক এসব আওয়ামী ক্যাডারদের গ্রেফতার করা না হলে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বি*এনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের এসব নেতার রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম ওরফে বিল্ডিং ফরিদ এক সময় ওয়াইস্যা ( অভাবি) ফরিদ হিসেবে পরিচিত ছিলো। খুনি হাসিনার আশীর্বাদে ৯১ সনের কুতুবদিয়া মহেশখালী আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হন। শেখ হাসিনা তাকে নির্বাচন করার জন্য ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি ওই টাকা নির্বাচনে খরচ না করে কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়ায় ফাউন্ডেশন দিয়ে এক তলা বাড়ি করে ফেলেন।
দীর্ঘদিন সেই এক তলা বাড়িতে ওয়াইস্যা তিরিস্যা (অভাবে অনটনে) কাটিয়েছিলেন।
চরম স্বার্থপর ও বেশরম ফরিদ উকিল নিজের স্বার্থে নিজের ভাতিজাকে লোক লাগিয়ে হ*ত্যা করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
সেই বিল্ডিং ফরিদের ভাগ্যের চাকা খুলে যায় যখন তাকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
মাত্র দুই বছরের মধ্যে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান বিল্ডিং ফরিদ।
একতলা ভবনটি হয়ে যায় আলিশান ৬ তলা ভবন।

বাগিয়ে নেন উত্তরণ আবাসিক এলাকায় এ ব্লকে প্লট, কলাতলী ৫১ একরে প্লট, কউকের আবাসিক প্রকল্পে প্লট, বাহারছড়ায় ফ্ল্যাট, কুতুবদিয়ায় মার্কেট, চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট, ঢাকার কলাবাগানে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট, ও হাতিরঝিলে ৭০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট ।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উকিল ফরিদুল ইসলাম চট্টগ্রামের একটি আবাসিক এলাকায় বর্তমানে আত্নগোপনে রয়েছেন।

ওই সূত্রটির দাবি তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যার নামে রয়েছে বিপুল সম্পদ।
এছাড়া বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। রয়েছে ৪ থেকে ৫ টি বিলাসবহুল গাড়ি।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক বলেন জেলা আওয়ামী লীগের পরামর্শদাতা উকিল ফরিদকে গ্রেফতার করা না হলে জেলায় অনেক অঘটন ঘটবে।

তিনি আরো দাবি করেন,উকিল ফরিদের জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাস্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হোক। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব চেয়ারম্যানের রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ। মুজিব চেয়ারম্যান নতুন বাহারছড়া ও নুনিয়ারছড়ায় বাঁকখালী নদী দখল করে কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলেন। তিনি কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোনে ১১ টি হোটেল দখল করেন। নামে বেনামে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারে শতাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এছাড়া দুবাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় রয়েছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

তার পুত্র মেহেদি হাসানের ও রয়েছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ। মুজিবুর রহমান এখনো জেলায় যৌথভাবে মকসুদ মিয়ার সহযোগিতায় ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের এল এ কেসের টাকা, পৌরসভার কোটি কোটি টাকা সরিয়ে ফেলে মুজিব
বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

মুজিব চেয়ারম্যান ও উকিল ফরিদুল ইসলামের নেটওয়ার্কে এখনো জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা ক্ষমতায় রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উকিল ফরিদের সহযোগিতায় কুতুবদিয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল জহিরুল ইসলাম বহাল তবিয়তে থেকে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহেশখালীর মেয়র মাকসুদ দখল, মাদক ব্যবসার গডফাদার। এখনো জেলার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে রয়েছে। মাদকসেবি হিসাবে আত্নসীকৃত মাহবুবুল হক মুকুল ছেলের সহায়তায় কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের ক্রিমিনাল হিসাবে খ্যাত রেজাউল করিমের ও রয়েছে বিপুল সম্পদ। নিজের মেয়ের জামাই কোটি টাকার টেন্ডার ব্যাবসা করেও কক্সবাজারে নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের এক দুদক কর্মকর্তা জানান,বিগত সরকারের আমলে যেসব রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী আমলা অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। কথিত নেতাসহ অনেকের জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সময় হলে তা দৃশ্যমান হবে।
কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানান,জেলায় আওয়ামী লীগের ১৫ ফ্যাসিবাদী নেতার বিপুল সম্পদের খোঁজ তাদের কাছে রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত সে-সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া।

আরো