বাগেরহাট-৪ আসনে রাজনৈতিক বিতর্কে  তোলপাড়, পাল্টা জবাবে উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদ সভা 

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধিঃবাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদল উপজেলা শাখার কার্যালয় উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ২৪শে মার্চ মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট -৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সোমনাথ দে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার জন্য বিএনপি কেন্দ্রী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান ঢাবি’র ভিসি ড.ওবায়দুল ইসলাম ও তার অনুসারীদের দায়ী করার প্রতিবাদে সকালে বারইখালী ঢালাই ব্রিজ সংলগ্ন  যুবদলের কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা  করেন উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.মেহেদী হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল,শরনখোলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো বেল্লাল হোসেন মিলন, মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপি সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আজাদ,সাধারণত সম্পাদক মো আসাদুজ্জামান মিলন,জাতীয়তাবাদী যুবদল উপজেলা শাখার সদস্য সচিব বিএম রেজাউল করিম সোহাগ, পৌর  যুবদল আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পলাশ, সদস্য  সচিব এইচ এম শহিদুল ইসলাম মিঠু,উপজেলা জাতীয়তাবাদ স্বেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক মোঃ মেহেদী হাসান রুবেল, উপজেলা জাতীয়বাদী ছাত্রদল সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু সালেহ,পৌর ছাত্র সাবেক আহ্বায়ক মোঃ সজল বেপারীসহ মোরেলগঞ্জ -শরণখোলা উপজেলা ও পৌর  বিএনপি এবং তার সকল  অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন  পর্যায়ের  নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় নেতৃবৃন্দ  বলেন,বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সোমনাথ দে’র বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অসহযোগিতা এবং ভরাডুবির অভিযোগ তোলার পরপরই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

তার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে প্রতিবাদ সভায় বক্তারাবলেন,রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি এক আলোচনা সভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে সোমনাথ দে অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় ধানের শীষের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কিছু অংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যা মুহূর্তেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তবে বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবসময় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সক্রিয় ছিল। ব্যক্তিগত ব্যর্থতার দায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর চাপানো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নির্বাচন কোনো ব্যক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া নয়; বরং তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয়তা, সংগঠনের শক্তি এবং জনগণের সমর্থনের ওপরই বিজয় নির্ভর করে। ভিত্তিহীন অভিযোগ দলীয় ঐক্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে প্রকাশ্য অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের আগে দলীয় সমন্বয় বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিএনপির নেতারা সকল নেতাকর্মীকে সংযত বক্তব্য প্রদান এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে ঐক্যের বিকল্প নেই।

আরো