রামাদানের প্রথম রাতে করণীয়
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
👉রামাদানের প্রথম রজনী অত্যন্ত মহিমান্বিত। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী- এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। প্রত্যেক মু’মিনের উচিৎ পুরো রামাদানে তাক্বওয়া অর্জনের লক্ষ্যে ইবাদাতের যথাযথ পরিকল্পণা গ্রহণ করা, মহাগ্রন্থ ক্বুরআন নাযিলের মাসে প্রতিদিন ক্বুরআন অধ্যয়ন (তেলাওয়াত/অর্থ সহ বুঝে পড়া) করার অভ্যাস গড়ে তোলা। রামাদানের প্রথম রাতে দুষ্ট শয়তানদের বন্দী করা হয় এবং জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাই
চাঁদ দেখার পর থেকেই ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করা, নিয়্যত শুদ্ধ করা এবং তারাবি, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করাই প্রধান করণীয়।
রামাদানের প্রথম রাতের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো হাদিসের আলোকে নিচে তুলে ধরা হলো:
১. চাঁদ দেখা ও দোয়া পড়া:
রামাদানের নতুন চাঁদ দেখা সুন্নাত। চাঁদ দেখলে নবীজি (সা.) নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়তেন-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই মাসটি আমাদের ওপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে অতিবাহিত করুন। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার রব আল্লাহ। (তিরমিজি)
২. তারাবির নামাজ আদায় করা
রামাদানের প্রথম রাত থেকেই তারাবির নামাজ শুরু হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
”যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম (তারাবি) করবে, তার পেছনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)
৩. খাঁটি মনে তাওবা করা:
হাদিসে এসেছে, রামাদানের প্রথম রাতেই শয়তান ও অবাধ্য জিনদের বন্দি করা হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই এই রাতে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বিগত জীবনের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।
৪. সেহরি খাওয়া:
প্রথম রাতের শেষাংশে রোজা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
”তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।” (বুখারি)
৫. দোয়ায় মশগুল থাকা:
হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের প্রতি রাতে একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকেন— “হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থামো।” এই রাতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তাই নিজের ও পরিবারের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৬) বেশি বেশি দান-সাদাকা করা: রমজান উপলক্ষে বেশি বেশি দান-সদকা শুরু করা।
৭) পরিমিত আহারের অভ্যাস করা: ইফতারে এবং রাতে সুষম ও হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা।
৮) রামাদানের নিয়্যত করা: রামাদানের সাওমের নিয়্যাত করা অত্যন্ত জরুরী। মনে মনে এই সংকল্প করাই যথেষ্ট যে- “আমি আগামীকাল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রামাদানের রোজা রাখব।”
মহান আল্লাহ্ আমাদের রামাদানে তাক্বওয়া অর্জন করে মুত্তাকী হবার পাশাপাশি পরিপূর্ণ হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করুন।