বাজারে স্বস্তি নেই, এক পণ্যের দাম কমলে বাড়ছে অন্যটির
নিত্যপণ্যের বাজারে এখনও মিলছে না স্বস্তি। এক পণ্যের দাম কমলে, বাড়ছে অন্যটির। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা। নতুন সরকারের কাছে বাজারে স্বস্তি ফেরানোর আহ্বান তাদের। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিন কৌশলে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বাজারে ভোগ্যপণ্যের সংকট না থাকলেও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। গত কয়েক বছরে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজে আসেনি কোনো উদ্যোগ। অর্থবছরের প্রথম মাসেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
ভোক্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বাজার তদারকির কারণে অনেক পণ্যের দাম হঠাৎ এক থেকে দেড় শ টাকা কমে গিয়েছে। তবে কোনো কোনোটির দাম আবার বেড়ে গিয়েছে। আশা করা যায়, এ সরকার ধীরে ধীরে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্থিতিশীলতা আনবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে।
সরকার পরিবর্তনের পর বাজারে কমেছে চাঁদাবাজি। তদারকি করছে সাধারণ ছাত্ররাও। এতে কিছুটা কমেছে সবজিসহ মুরগির দাম। মূল্যস্ফীতি কমাতে পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ঠিক রাখা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে নতুন সরকার।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পণ্য উৎপাদনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এ ছাড়া বাজারে পণ্য ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে যে সাপ্লাই চেইন রয়েছে এই পুরো সিস্টেমের সংস্কার করতে হবে। বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি সেদিকে নজর দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, আগের রাজনৈতিক দলগুলো নিত্যপণ্যের মূল্য কমাতে যে পদক্ষেপগুলো নিতে পারেনি এই সরকার যদি সেগুলো নিতে পারে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি না কমার কোনো কারণ নেই।
সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির পাশাপাশি টিসিবি, ওএমএসসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।