পুঁজিবাদীদেরকে উদ্যোক্তা হিসাবে বিশ্বাস করলেও আইন প্রণেতা হিসেবে বিশ্বাস করা যাবে না

মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া, খাগড়াছড়ি: আজ থেকে ৩০০ বছর আগে অ্যাডাম স্মিথ সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন,পুঁজিবাদীদেরকে উদ্যোক্তা হিসাবে বিশ্বাস করলেও আইন প্রণেতা হিসেবে বিশ্বাস করা যাবে না।তার মতে তারা কোন বাণিজ্য বা আইনের প্রস্তাব করলে তা খুব সাবধানে এবং তীক্ষ্ণ সন্দেহে চিল-চোখে পরীক্ষা না করে গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।কেননা এই প্রস্তাব এমন একজনের কাছ থেকে আসে;যাদের স্বার্থ এবং জনতা স্বার্থ এক হয় না।তাদের সাধারণত লক্ষ্য থাকে প্রতারণা করা।
তিনি আরো বলেছিলেন “একটি জাতির প্রকৃত সম্পদ হলো শ্রমজীবী জনগণ”।বুদ্ধি ভিত্তিক এ সমাজে সেই শ্রমজীবীর ৯০% মানুষের শ্রমজাত সম্পদকে লুণ্ঠন করে জনসমষ্টির এক ক্ষুদ্র অংশের হাতে”সম্পদ ও বিত্ত” সঞ্চয়নের অধিকারকে উদার গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মনে করাটাই পুঁজিবাদ।
“বৈষম্য দূর হবে না যদি ব্যবস্থা না বদলায়।”প্রাচুর্যের ভিতরে দারিদ্রতা।পুঁজিবাদের অনিবার্য ফসল।পুঁজিবাদীরা বর্তমানকেই সব কিছুই মনে করে।পুঁজিবাদের কারণে প্রাচুর্যের পৃথিবী আজ পরিণত হয়েছে অভাব,বেকারত্ব ও সংঘর্ষের পৃথিবীতে।পুঁজিবাদীরা নৈতিকতা ও মনুষ্যত্বের মূল্য না দিয়ে ভোগের লালসায় অস্থির হয়ে যায়।তখনই মানবিক বিবেচনাগুলো পদদলিত হয়।
অরাজকতার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় সু-শৃঙ্খলতা।সভ্যতার বিবর্তনে ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে কিন্তু পুঁজিবাদের কারণে শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
পুঁজিবাদীতার কারণে সমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিঃশেষ হয়ে যায়,শিল্প সৌন্দর্য রসবোধ লুপ্ত হয়,সমাজ হয় নষ্ট আর নষ্ট সমাজে কাজ করে শুধু স্বার্থপরতা।
সম্রাট জাহাঙ্গীর একবার পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে এসে নদীতে জোয়ার ভাটা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাকি মন্তব্য করেছিলেন,
“যে দেশে নদীর পানি সকালে একদিকে এবং বিকেলে অন্যদিকে ধাবিত হয়,সে দেশের মানুষের মন বোঝা বড়ই কঠিন”।মানুষের মন ক্ষণে ক্ষণে বদলায়।স্বার্থপর সমাজে বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই মানুষের মন ক্ষণে ক্ষণে বদলায়।
অতএব সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তন হলে পরিবর্তিত কাঠামোতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, আপনার জীবন এমনিতে বদলে যাবে।

আরো