ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে, অবশেষে স্বামীর গুলিতে দাপুটে নায়িকা সায়েদার মৃত্যু
বলিউড ইন্ডাস্ট্রির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অগণিত বেদনার গল্প। এমনই করুণ পরিণতি হয়েছিল অভিনেত্রী সায়েদা খানের, যিনি ১১ বছর বয়সেই চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন। একসময় বড় পর্দায় তারকাখ্যাতি পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি।কলকাতায় জন্ম নেয়া সায়েদা ছিলেন সিনেমার নৃত্যশিল্পী আনওয়ারি বেগমের মেয়ে। ছোটবেলায় সংসারের অভাব মেটাতে অভিনয়ে নামেন তিনি।
পরিচালক এইচ এস রাওয়াইলের হাত ধরে ১৯৬১ সালের ‘কাচ কি গাদিয়া’ সিনেমাতে মনোজ কুমারের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। পরে কিশোর কুমারের সঙ্গেও ‘আপকা হাত জাগান্নাথ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুটা দাপটের সঙ্গে হলেও সমস্যার সঙ্গে হারিয়ে যান তার তারকাখ্যাতি , টিকে থাকার জন্য নিতে শুরু করেন ছোট চরিত্র।
এই সময়ে তার জীবনে আসেন প্রযোজক ব্রিজ সাদানাহ। তাকে বিয়ে করতে সায়েদা ধর্ম পরিবর্তন করে নাম রাখেন সুধা সাদানাহ। কিন্তু অতীত তাড়া করে বেড়াতো তাকে। ব্রিজ বিশ্বাস করতেন, বিয়ের আগেই সায়েদার একটি সন্তান জন্মেছিল, যাকে তার মা আনওয়ারি বেগম লালনপালন করছেন। এই সন্দেহ দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী অশান্তি ডেকে আনে।
অন্যদিকে ‘আশিকি টু’ এবং ‘মার্ডার টু’ সিনেমার স্ক্রিপ্টরাইটার শাগুফতা রফিক বেড়ে উঠছিলেন সায়েদার মা আনওয়ারি বেগমের কাছে। তাই সায়েদার স্বামী ভাবতেই শাগুফতা রফিক হয়তো অভিনেত্রীর সেই অস্বীকৃত কন্যা, আর এ নিয়েই ব্রিজের মধ্যে ছিল প্রবল ক্ষোভ। শাগুফতা বলেন, অনেকে বলত আমি সায়েদা আপার মতো দেখতে। তিনিও আমার জন্য লড়তেন, কাঁদতেন, যা শুধু বোনের জন্য অস্বাভাবিক মনে হতো।
বছরের পর বছর চলতে থাকা দ্বন্দ্ব ও ব্যর্থতার চাপ চরমে ওঠে ছেলের ২০তম জন্মদিনে। সারাদিন মদ্যপান করার পর ব্রিজ হঠাৎই অস্ত্র হাতে নেন। স্ত্রী সায়েদা, মেয়ে নম্রতা ও ছেলে কমলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান এবং শেষে নিজেকেও গুলি করেন। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান কমল। তিনি জানান, ‘মা ও বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন বুঝতেই পারিনি আমিও গুলিবিদ্ধ।’ কিন্তু সেদিন সায়েদা ও তার মেয়েকে আর বাঁচানো যায়নি। এই নির্মম ঘটনার পর কমল কিছুদিন অভিনয়ে চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে বলিউড থেকে সরে দাঁড়ান।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস