অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আইওএম বাংলাদেশের দেশব্যাপী ভিডিও প্রচারণা
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)’র অর্থায়নে, বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আইওএম বাংলাদেশ, মানব পাচারের প্রবণতা যে সব অঞ্চলে বেশি, যেমন, ঢাকা, কক্সবাজার, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে, ভিডিও শো এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ‘বাংলাদেশে মানব পাচার প্রতিরোধে একটি সমন্বিত প্রকল্পের’ আওতায় উক্ত জেলাগুলিতে মোট ২৫০টি ভিডিও শো পরিচালিত হবে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণ এবং কিশোর-কিশোরীদের, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানব পাচারের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসনের আচরণগত পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার উপর জোড়াল ভূমিকা রাখবে।
এই কার্যক্রমের লক্ষ্য হল অংশগ্রহণকারীদের অনিরাপদ অভিবাসন এর সাথে সম্পর্কিত নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সংবেদনশীল করা এবং নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া ও বিদ্যমান সেবা ও সহায়তা পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করা, সেইসাথে অভিবাসী এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আরও ভালভাবে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা। মানব পাচার এবং অনিয়মিত অভিবাসন বাংলাদেশে এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই প্রচারণার মাধ্যমে, আইওএম স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দিয়ে ক্ষমতায়িত করছে, তাদেরকে জেনে বুঝে সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এবং পাচারের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করছে।
প্রতিটি অধিবেশন কেবল তথ্যই প্রদান করছে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা প্রচার এবং সক্রিয়ভাবে মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ব্যক্তিগত এবং সম্মিলিত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী অনুষ্ঠান শেষে সকলে মিলে একসাথে মানব পাচার প্রতিরোধ করারএকটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্রুতি করেন।
ভিডিও শোগুলি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, তৃণমূল পর্যায়ের সংস্থা এবং সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যাতে করে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিশ্চিত করা যায়। দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং জনসংখ্যাকে লক্ষ্য করে, আইওএম বাংলাদেশ সতর্কতা এবং সংহতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত সমস্ত অভিবাসীর নিরাপত্তা এবং কল্যাণে অবদান রাখবে। এই প্রচারণা মানব পাচার নির্মূল এবং অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন করার জন্য আইওএম বাংলাদেশের চলমান প্রতিশ্রুতির অংশ।