ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে আমলসমূহ

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

সাহাবী রাযি: এর কাছে ভূমিকম্প নিছক কোন প্রাকৃতিক ঘটনা ছিলোনা। তাদের কাছে ভূমিকম্প ছিল আল্লাহর সুষ্পষ্ট সতর্কবার্তা। তাই তাঁদের ভূমিকম্প পরবর্তী আ’মল ও প্রতিক্রিয়া ছিলো আমাদের চেয়ে ভিন্ন। তাঁদের প্রদর্শিত নিম্নলিখিত আমলগুলো আমরাও প্রতিপালন করে ফায়দা হাসিল করতে পারি:
১) *ইস্তিগফার আর তাওবা*:
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) সরাসরি বলতেন,
“এটা আল্লাহর সতর্কতা। তাই তাওবা করো।”
তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো— জমিন যখন কেঁপে ওঠে, সেটা মানুষের গাফিলতির দিকেই ইশারা করে।

২) *সাদাকা বাড়ানো*:
অনেক সাহাবী রাযি: দান বা সাদাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। তাঁরা বলতেন- “ভূমিকম্প এলে দান বাড়াও। গুনাহের কারণে এসব হয়ে থাকে।”
তাঁদের মতে, দান হলো আল্লাহর গজব দূর করার অন্যতম মাধ্যম।

৩) *মানুষকে সতর্ক করা*:
উমর (রা.) মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করতে এমন কঠোরভাবে বলতেন যাতে মানুষের অন্তর কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের সময় নিজেদের আমল ফিরে দেখার উপর গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি বলতেন-
“গুনাহ বাড়লে জমিন কাঁপে।” অর্থাৎ,
৪) *মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা ও কুরআন তিলাওয়াত*:
হযরত উসমান (রাযি:) মানুষকে শান্ত থাকা, দোয়া ও ইস্তেগফার ও কুরআন পড়ার আমল পালন করতেন।
উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যায়- সবকিছুই আমাদের হাতের কামাই। মহান আল্লাহ্ বলেন- তোমরা কি আসমানওয়ালার থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদেরকে ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে? (আল মুল্‌ক – ১৬)
রাসুল ﷺ বলেছেন: “কিয়ামত আসার আগে ভূমিকম্প বেড়ে যাবে।”
(সহীহ বুখারি, হাদিস ১০৩৬)
অন্য হাদীসে মহানবী সা: বলেন-“যখন মানুষের মধ্যে অশ্লীলতা ও পাপ কাজ বৃদ্ধি পায়, তখন ভূমিকম্প ও বিপদ বাড়তে থাকে।”
(সুনান তিরমিজি, হাদীস ২১৮২।)
সুখ-দুঃখ, ভাল-মন্দ, বিপদ-আপদ সকল বিষয়ে আমরা বিশ্বজগতের মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর উপর ভরসা রাখি ও তাঁর দেয়া বিধি-নিষেধ মেনে চলি।

আরো