শবে মেরাজের ঐতিহাসিক ঘটনা

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

মেরাজ অর্থ হলো ঊর্ধ্বগমন বা সিড়ি। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ” বা “রাতে নিয়ে যাওয়া”। লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনীতে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) অলৌকিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

নবুয়তের ১২ সালে, রজব মাসের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে, যা হিজরতের প্রায় ১২ বছর আগে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কঠিন সময়ে (স্ত্রী খাদিজা রাযি: ও চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সান্ত্বনা ও সম্মানস্বরূপ প্রদান করা হয়। মহানবী সাঃ এর চাচাত বোন ও আবু তালিবের কণ্যা উম্মে হানির ঘরে নিদ্রিত অবস্থা থেকে জাগ্রতপূর্বক মিরাজের ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়। রাসুল(ﷺ) এর মিরাজ সম্পর্কে উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব ওরফে হিন্দ রাবী ছিলে, তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনেক নির্ভরযোগ্য ও মিরাজের অকাট্য প্রমাণ। তিনি বলেছেন, ‘আমার বাড়িতে থাকা অবস্থায়ই তিনি মিরাজে গেছেন, অন্য কোনো খান থেকে যাননি। সে রাতে তিনি আমার বাড়িতে এশার নামাজ পড়ে ঘুমাতে গেলেন। আমরাও ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোরের একটু আগে রাসুলে করিম (ﷺ) আমাদের জাগিয়ে দিলেন। আমরা ফজরের নামাজ পড়লাম। তারপর তিনি বললেন, “উম্মে হানি, কালকে তো এইখানে এই উপত্যকায় আপনাদের সঙ্গে আমি এশার নামাজ পড়লাম। সে তো আপনি দেখেছিলেন। তারপর আমি জেরুজালেমে গেলাম এবং ওখানে নামাজ পড়লাম। আবার এখানে আমি এক্ষনি আপনাদের সঙ্গে ফজরের নামাজ পড়লাম, এই যেমন দেখলেন । তিনি বাইরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেই আমি তাঁর জামা চেপে ধরলাম, তাতে টান লেগে তাঁর পেট উদাম হয়ে গেল, যেন আমি এক ভাঁজ করা মিসরীর কাপড় ধরে টেনেছিলাম। আমি বললাম, *রাসুলুল্লাহ,সা‌‌: যেন একথা কাউকে না বলবেন। ওরা বলবে, এটা মিথ্যা গল্প। আপনাকে তারা অপমান করবে।’* তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম, তাদের আমি বলবই।’
মহানবী সাঃ তন্দ্রাচ্ছন্ন তবে হৃদয়-মানস জাগ্রত। বার্তাবাহক হযরত জিবরাইল আঃ আগমন করে মহানবী সাঃকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন জমজমের নিকট। একটি স্বর্ণের পেয়ালা আনা হলো। তা ছিল ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ; তাতে জমজমের পানি। জিবরাঈল (আ.) নবীজির বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করলেন। নবীজির হৃদয় যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে আবার প্রতিস্থাপন করে দিলেন জায়গামত। ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ করে দেওয়া হলো নবীজির কলব। উর্ধ্বাকাশে ভ্রমণের জন্য বাহন আনা হলো প্রাণীটি গাধার চেয়ে বড়, ঘোড়া থেকে ছোট ক্ষিপ্রগতির বাহন
বোরাক। মহানবী (ﷺ)কর্তৃক সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় জিবরাইল (আ.) ও মিকাইলের (আ.) এর সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে উর্ধ্বগমন শুরু হলো। তিনি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমানে গমন করেন।
অতঃপর ধারাবাহিকভাবে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ করে মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন। জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
*বাইতুল মুকাদ্দাসে মহানবী (ﷺ)*
নবীজিকে যখন বোরাকে তোলা হচ্ছিল তখন সে ঔদ্ধত্য দেখাল। তখন জিবরাঈল আ. বললেন- মুহাম্মাদের ক্ষেত্রে এরকম করছিস! তোর উপর তো এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ কোনোদিন চড়েনি। এ শুনে বোরাক ঘর্মাক্ত হয়ে গেল। (তিরমিজি, হাদিস : ৩১৩১)
মহানবী (ﷺ)মুহূর্তেই পৌঁছে গেলেন বাইতুল মুকাদ্দাসে। বোরাক বেঁধে রাখা হলো পাথর ছিদ্র করে। যে পাথরে অপরাপর নবীগণ নিজেদের বাহন বেঁধে রাখতেন। নবীজি সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় জিবরাঈল (আ.) নবীজির সামনে দুটি পেয়ালা পেশ করলেন। একটি দুধের অপরটি শরাবের। নবীজি দুধের পেয়ালা গ্রহণ করলেন। জিবরাঈল (আ.) বললেন, আপনি (দ্বীনের) স্বভাবসিদ্ধ বিষয়টি নির্বাচন করেছেন।
নবীজি মদের পেয়ালা নেওয়ার পরিবর্তে দুধের পেয়ালা গ্রহণ করায় জিবরীল (আ.) বলেন, আপনি যদি মদের পেয়ালা নিতেন তাহলে আপনার উম্মত বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৪)
*প্রথম আসমানে প্রিয়নবী (ﷺ): আসমানের দরজা খুলে দেয়া হলো*
ঊর্ধ্বজগতের সফর শুরু হলো। জিবরাঈল মহানবী (ﷺ)কে নিয়ে চললেন। প্রথম আসমানে গিয়ে দস্তক দিলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, কে? বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হলো- আপনার সাথে কে? বললেন- মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করা হলো- তার কাছে কি আপনাকে পাঠানো হয়েছে? বললেন- হাঁ। এরপর নবীজিকে সম্ভাষণ জানানো হলো- মারহাবা, উত্তম আগমনকারীর আগমন ঘটেছে!
নবীজি(ﷺ) প্রথম আসমানে গেলেন। সেখানে ছিলেন হযরত আদম (আ.)। জিবরাঈল পরিচয় করিয়ে দিলেন। নবীজি আদমকে সালাম বললেন। বাবা আদম জবাব দিলেন। নবীজিকে সাদর অভিবাদন জানালেন- মারহাবা, নেককার পুত্র ও নেককার নবী। হযরত আদম (আ.) নবীজির জন্য দোয়া করলেন।
*দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসমানে মহানবী (ﷺ)*
দ্বিতীয় আসমানের দরজা খুলতে প্রথম আসমানের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। এরপর নবীজিকে ইস্তেকবাল করা হলো। নবীজি সেখানে দেখতে পেলেন দুই খালাত ভাই হযরত ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.)-কে। তাদের সাথে নবীজির সালাম বিনিময় হলো। তারা নবীজিকে স্বাগত জানালেন- মারহাবা, আমাদের পুণ্যবান ভাই এবং সজ্জন নবী। তারা নবীজির জন্য দোয়া করলেন।
অতঃপর তৃতীয় আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানেও দুই আসমানের মতো জিজ্ঞাসাবাদ হলো এবং নবীজিকে স্বাগত জানানো হলো। সেখানে গিয়ে দেখলেন হযরত ইউসুফ (আ.)। হযরত ইউসুফের সাথে নবীজির সালাম ও কুশল বিনিময় হলো। নবীজি (সা.) বলেন- হযরত ইউসুফকে যেন দুনিয়ার অর্ধেক সৌন্দর্য ঢেলে দেওয়া হয়েছে!
*চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ও শেষ আসমানে নবীজি (ﷺ)*
চতুর্থ আসমানেও পূর্বের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। স্বাগত-সম্মান জানানো হলো। সেখানে হযরত ইদরীস (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। সালাম ও কুশল বিনিময় হলো। হযরত ইদরীস (আ.) নবীজির জন্য দোয়া করলেন।
এভাবে পঞ্চম আসমানে হযরত হারূন (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো।
ষষ্ঠ আসমানে দেখা হলো হযরত মূসা আ.-এর সাথে। তিনি নবীজি (ﷺ)কে
খুব ইস্তেকবাল করলেন।
*বাইতুল মামুর ও সিদরাতুল মুনতাহায় নবীজি (ﷺ)*
সপ্তম আসমানে হযরত ইবরাহীম আ.-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো । জিবরাঈল আ. পরিচয় করিয়ে দিলেন- ইনি আপনার পিতা, সালাম করুন। নবীজি হযরত ইবরাহীম আ.-এর সাথে সালাম বিনিময় করলেন।
নবীজি বলেন-হযরত ইবরাহীম আ. তখন বাইতুল মামুরে হেলান দিয়ে ছিলেন। বাইতুল মামুর, যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা আসে। এরপর এই সত্তর হাজার আর ফিরে আসে না। এভাবে প্রতিদিন সত্তর হাজার করে ফেরেশতাদের নতুন নতুন কাফেলা আসতে থাকে।
অতঃপর নবীজিকে নিয়ে যাওয়া হলো সিদরাতুল মুনতাহার দিকে। সেই কুল বৃক্ষের একেকটি পাতা হাতির কানের মতো। আর একেকটি ফল মটকার মতো বড় বড়। যখন ওটাকে আল্লাহর বিধান আচ্ছন্ন করে নিল তা পরিবর্তিত হয়ে গেল। সৃষ্টির কারো সাধ্য নেই তার সৌন্দর্যের বিবরণ দেবার। জিবরাঈল বললেন, এটা সিদরাতুল মুনতাহা। এখানে চারটি নহর। দুটি অদৃশ্য আর দুটি দৃশ্যমান। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, দৃশ্যমান নদী দুটি কোনগুলো? জিবরাঈল বললেন- অদৃশ্যমান দুটি জান্নাতে। আর দৃশ্যমান দুটি হলো নীল নদ ও ফুরাত নদী।
*উম্মতের জন্য অত্যাবশকীয় নামাজের বিধান*
আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে দিনে ও রাতে উম্মতের জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিলেন। নবীজি আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের এ হাদিয়া নিয়ে ফেরত আসছিলেন; পথিমধ্যে হযরত মূসা আ.-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- আল্লাহ আপনার উম্মতের জন্য কী দিয়েছেন? নবীজি বললেন-পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ। হযরত মূসা বললেন- আপনার উম্মত রাত-দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারবে না। আপনার আগে আমি উম্মত চালিয়ে এসেছি। আপনি আল্লাহর কাছে গিয়ে কমিয়ে আনেন।
নবীজি আল্লাহর কাছে গিয়ে কম করে দেওয়ার দরখাস্ত করলেন। আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। নবীজি তা নিয়ে ফেরত আসছিলেন। আবার হযরত মূসা আ.-এর সাথে দেখা হলো। বললেন, আপনার উম্মত তা পারবে না। আপনি আরো কমিয়ে আনুন। নবীজি আবার আল্লাহর কাছে গিয়ে আগের মতো দরখাস্ত করে আরো পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে আনলেন। নবীজি বলেন, এভাবে আমি আল্লাহ ও মূসার মাঝে আসা-যাওয়া করতে থাকি। শেষবার আল্লাহ বলেন, মুহাম্মদ! এই হলো দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। প্রত্যেক নামাজের বিনিময়ে দশ নামাজের সাওয়াব। এভাবে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব পাবে। (বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭; মুসলিম, হাদিস: ১৬২, ১৬৪)
*নবীজির জন্য হাউজে কাউসার*
আল্লাহ তাআলা নবীজির জন্য যে বিশেষ উপহার হাউজে কাউসার রেখেছেন প্রথম আসমানে নবীজিকে তা দেখানো হয়। নবীজি সেই কাউসারের বিবরণও দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস : ৭৫১৭)
নবীজি (সা.) যখন প্রথম আসমানে যান- দেখেন এক ব্যক্তি, তার ডান পাশে কিছু রূহ আর বাম পাশে কিছু রূহের কাফেলা। তিনি ডানদিকে তাকালে হাসেন আর বাম দিকে তাকালে কাঁদেন। তিনি নবীজিকে সম্ভাষণ জানালেন। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, জিবরাঈল! ইনি কে? জিবরাঈল বললেন, ইনি আদম আ.। আর তার দুই পাশে তার সন্তানদের রূহ। ডানদিকেরগুলো জান্নাতী আর বামদিকেরগুলো জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডানদিকে তাকিয়ে হাসেন আর বামদিকে তাকিয়ে কাঁদেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪২)
*জান্নাত-জাহান্নাম ভ্রমণে নবীজি*
নবীজিকে জান্নাত-জাহান্নামের ভ্রমণও করানো হয়। নবীজি বলেন- জান্নাতের প্রাসাদগুলো মুক্তার তৈরি আর তার মাটি হলো মেশকের। (বুখারি, হাদিস : ৭৫১৭)
নবীজি ভ্রমনের এক পর্যায়ে একদল লোককে দেখতে পেলেন- তাদের নখগুলো তামার। নিজেদের নখ দিয়ে তারা নিজের গাল ও বুকে আঁচড় কাটছে। জিজ্ঞাসা করলেন, জিবরাঈল! এরা কারা? জিবরাইলের উত্তর- এরা ওই সমস্ত লোক, যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের সম্ভ্রমে আঘাত হানত। অর্থাৎ গীবত করত এবং মানুষকে লাঞ্ছিত করত। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৩৩৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৭৮)
নবীজি মুসা (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.)-এর শারীরিক গড়নেরও বিবরণ দেন। নবীজি বলেন, আমি ইবরাহীমের আকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৪)
হযরত ইবরাহীম আ.-এর সাথে মুলাকাত হলে তিনি নবীজিকে বলেন, আপনি আপনার উম্মতের কাছে আমার সালাম পৌঁছাবেন। আর তাদেরকে বলবেন, জান্নাতের মাটি পবিত্র ও সুঘ্রাণযুক্ত, এর পানি সুমিষ্ট এবং এর ভূমি উর্বর ও সমতল। আর এর বৃক্ষ হচ্ছে-

سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَر.

অর্থ : আল্লাহ পবিত্র, সব প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৬২)
*মিরাজের সফরে নবীজিকে উপহার*
নবীজিকে তিনটি উপহার দেয়া হয় (১) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (২) সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো এবং (৩) এই উম্মতের যারা শিরক থেকে বেঁচে থেকে মৃত্যুবরণ করবে— তাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস-১৭৩)
এক পর্যায়ে নবীজি সাঃ দেখানো হলো – *একদল লোকের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলেন, এরা কারা? জিবরাঈল বললেন, এরা বক্তৃতা করত বটে, কিন্তু নিজেরা আমল করত না।* (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২২১১, ১২৮৫৬)
*মিরাজ থেকে ফেরার পরের ঘটনা*
রাসূলুল্লাহ (সা.) মিরাজ থেকে ফিরে হাতীমে বসা। মুশরিকরা ইসরা ও মেরাজের ঘটনা শুনে উপহাস ও কটাক্ষ করতে লাগল। বিভিন্নভাবে নবীজির দিকে প্রশ্নের তীর ছুড়তে লাগল। তারা চাইল, বাইতুল মুকাদ্দাসের পূর্ণ বিবরণ শুনবে। নবীজি এমন প্রশ্নে খুবই বিব্রত হয়ে ওঠেন। এত রাতে বাইতুল মুকাদ্দাসকে তিনি সেরকম নিখুঁতভাবে দেখতে পারেননি।
নবীজি বলেন, এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমি আগে পড়িনি। আল্লাহ তাআলা প্রিয় বন্ধুকে সাহায্য করলেন। নবীজির চোখের সামনে মেলে ধরলেন বাইতুল মুকাদ্দাসের দৃশ্য। নবীজি দেখে দেখে তাদের প্রত্যেকটি জিজ্ঞাসার বিস্তারিত জবাব দিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৮৮৬; মুসলিম, হাদিস : ১৭২)
*প্রথম বিশ্বাস স্থাপনকারী* মক্কার কোনো পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন হযরত আবু বকর রাযি.। মক্কার কাফেররা তাঁকে এ বিস্ময়ের কথা বলে সুধাল-তবুও কি তুমি তাকে বিশ্বাস করবে? হযরত আবু বকর রাযি: এর হৃদয়ে ঈমানের বহ্নিশিখা জ্বলে উঠল। তিনি এক আকাশ আস্থা নিয়ে সুদৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠলেন – *আমি তো এর চেয়েও আরো দূরের অনেক জটিল বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। তাঁর কাছে আসা আসমানী বার্তাগুলোর ওপর রয়েছে আমার অটল বিশ্বাস ও সুদৃঢ় ঈমান।* (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৬২)
মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে আবু বকর সিদ্দিক রাযিঃ এর মতো বিশ্বাসী এবং কথা ও কাজের বাস্তবায়নকারী হিসাবে কবুল করুন।

আরো