দলীয় কোন্দলে খাগড়াছড়ি আসন হারাতে পারে বিএনপি
বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। খাগড়াছড়ি আসেন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের জেলা সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া কিন্তু দলটির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে বাদ পড়েছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ান। তিনি দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচলে অংশগ্রহণ করছেন এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানাযায়।
এদিকে দলের নেতাকর্মীরা ওয়াদুদ ভূইয়ার সাথে লোক দেখানো প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছে জানান দলটির একাংশের নেতারা। তারা বলেন, উপরে উপরে ওয়াদুদ ভূইয়ার সাথে প্রচার-প্রচারণা অংশগ্রহণ করলেও তলে তলে সমীরণ দেওয়ানের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে দলের নেতারা এবং তার জন্য ভোটের মাঠে কাজ করছেন তারা যা নির্বাচনের আগেই দৃশ্যমান হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএনপি নেতা বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়াকে দল মনোনয়ন দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তার পরিবারের সদস্যরাই তার বিপক্ষে কাজ করছে। তার সাবেক স্ত্রী রাতদিন তার বিরুদ্ধে যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। যা নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ওয়াদুদ ভূইয়ার বড় ভাইয়ের ছেলে এবং ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত সাংসদ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফরহাদের মৃত্যুর জন্য দলের অনেক নেতাকর্মী (চাচা) ওয়াদুদ ভূইয়াকে দায়ী করছে। ফরহাদ ভূইয়ার পরিবারের সদস্যরা এবং তার অনুসারীরা ভোটের মাঠে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি ঘুরে জানাযায়, সমীরণ দেওয়ান ৯০ এর দশকে আওয়ামীলীগ করতো। আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের পর দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সমীরণ দেওয়ান নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। তখন তিনি জয়লাভ করতে পারেননি, মাত্র ৬৩ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। বিজয়ী প্রার্থী আওয়ামীলীগের যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭শত ৫০ ভোট, আর সমীরণ দেওয়ান ৫৯ হাজার ৭ শত ০২ ভোটে পরাজিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তাকে। এছাড়াও দীর্ঘদিন এলাকার বাহিরে অবস্থান করা এবং দীর্ঘ বছর দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করায় একপ্রকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। এখন মনোনয়ন না পেয়ে তার সেই পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের উপর ভর করে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলে চায়ের দোকানে শোরগোল শুনা যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার করনেও সমীরণ দেওয়ান নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিটকে পড়তে পারেন বলে স্থানীয় বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর দাবি।
একজন বাঙ্গালী নেতা বলেন, সমীকরণ দেওয়ান কে স্থানীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থন করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাকে ইতিপূর্বেও সশস্ত্র সংগঠন গুলোর সাথে দেখা গিয়েছে। তাই দেশদ্রোহী সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘুষ্ঠির সাথে যুক্ত থাকা কোনো ব্যক্তিকে আমরা সাংসদ হিসাবে দেখতে চাইনা।
এছাড়াও উপজাতীয় প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন, জাতীয় পার্টির মিথিলা রওয়াজা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আছেন মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোনা রতন চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ধর্ম জ্যোতি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশোপ্রু মারমা। উপজাতীয় প্রার্থী দ্বয়ের মাঝে এককভাবে ভোট পেয়ে সমীরণ দেওয়ানের জয়লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে বলে মনে করছেনা ভোটাররা।
খাগড়াছড়ি বিএনপির অনেকেই মনে করেন, এই কোন্দল নির্বাচনের আগে শেষ করা না গেলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন হারাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির।