হেনস্তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান নাঈম হাসান
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে খুলশী থানা পুলিশ সদস্যদের হাতে আটক, মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। ঘটনার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘটনা বর্ণনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে টোল প্লাজা এলাকায় নাঈমকে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নাঈমের ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে খুলশী থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্যকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্রিকেটার নাঈম জানান, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় টোল প্লাজা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তিনি সহযোগিতা করলেও তারা কোনো কথা না শুনে তাকে ধাক্কা দেন এবং সিএনজি অটোরিকশা আটকে রাখেন। পাশে থাকা ব্যক্তিরা পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে না নিয়ে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়িতে তুলে খুলশী থানায় নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পরও তাকে হেনস্তা করা হয়।
নাঈম বলেন, ‘টোলের ওখানে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামায়। তারপর একজন আমাদের গাড়ি চেক করেছে। আমি ভেবেছিলাম ব্যাগ চেক করবে। তবে এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। কোনো কারণ না জানিয়েই জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতর ঢুকিয়ে লক করে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম যে কী হয়েছে। আমি তখন ভয় পেয়ে যাই’।
ঘটনার বর্ণনায় এই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘এসআই শফিক আমাকে বলেন, ‘‘তুই আসামি। তুই চুপ থাক, একটাও কথা বলবি না’’। তারপর আমার গলা চেপে ধরে। তখন আমি চিল্লাচিল্লি করেছি ও আব্বুকে কল দিয়েছি। আমার মোবাইলও নিয়ে নেয় তখন। ওখানে থাকা ভাইয়ারা সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছে, তবুও উনি আমার গলা চেপে ধরে রাখে। ওদের একজন পুলিশের ড্রেসে ছিল, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা ছিল। তারা থানায় নিয়ে আসে। আমি তখন ওসিকে আমার পরিচয় দেই।’
তিনি বলেন, থানায় ওসির সামনেও নাজেহাল করা হয়েছে। ওসি আমাকে বলে, ‘চোখ নামিয়ে কথা বলো’। আমি বলেছি যে- আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমি টেস্ট খেলি। ওখানে প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ ছিলেন, সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবুও পুলিশ শোনেনি। তাও ওরা আমার গলা চেপে ধরে থানায় নিয়ে আসে। আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছে এসআই শফিক। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার আপনার নেই, তবুও মেরেছে। পরে বিভিন্ন পরিচিতজন ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ফোন আসতে শুরু করলে পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পারে, এরপর ছেড়ে দেয়া হয়।’