অবৈধ সম্পদ করা হচ্ছে বিক্রি টাকা যাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের দুর্নীতির নাটক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। গোয়েন্দা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে মালয়েশিয়া পালিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের নিরাপদ রুট ব্যবহার করে তিনি সপরিবারে মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে কুয়ালালামপুর একটি বিলাসবহুল হোটেলে স্ত্রী ও ছোট ছেলেসহ অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করছেন তিনি। তবে বিদেশে বসেও তিনি শান্তিতে নেই। দুদক এবং সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির আওতায় আসার আগেই তিনি দেশে থাকা তার হাজার কোটি টাকার বিশাল সাম্রাজ্য দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তার বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কুয়ালালামপুর হোটেল কক্ষ থেকেই তিনি ঢাকার রিয়াল এস্টেট সিন্ডিকেটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
শহিদুলের ঘনিষ্ঠ একটি আন্তর্জাতিক গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মালয়েশিয়া তিনি বেশি দিন অবস্থান করবেন না। মালাই সরকারের অভিবাসন আইন এবং ইন্টারপোলের সম্ভাব্য রেড নোটিশের ঝুঁকি এড়াতে তিনি খুব দ্রুতই সপরিবারে মালয়েশিয়া ত্যাগ করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে অস্ট্রেলিয়া, অথবা কানাডা। কারণ বাংলাদেশ থেকে গত দেড় দশকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা বিপুল পরিমাণ টাকায় তিনি ইতোমধ্যে ওইসব দেশে বিশাল আবাসন ও বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে কানাডায় তার ছেলেদের নামে থাকা দুটি বিলাসবহুল বাড়ি, অস্ট্রেলিয়ার রাজকীয় ফ্ল্যাট এবং দুবাইতে থাকা স্বর্ণের চোরাচালানের সিন্ডিকেটের নিরাপদ আশ্রয়েই তিনি শেষ জীবন পার করতে চান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হওয়ার আগেই একজন সরকারি কর্মকর্তার এই আন্তর্জাতিক পলায়ন এবং দেশের সম্পদ বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের এই মহাসিন্ডিকেট দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে শহিদুল ইসলামের বিপুল অবৈধ সম্পদ যারা দেখভাল করেন এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির অংশীদার হিসেবে কাজ করেছেন, সেইসব বিশ্বস্ত ও ছায়া সিন্ডিকেটের সদস্যদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘শেল কবিতা’ নামক ১০০ কোটি টাকা মূল্যের ২০টি ফ্ল্যাটের পুরো ১০তলা ভবন, বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারের দুটি ফ্ল্যাট এবং শাহবাগ ও নিউমার্কেটের চার কোটি টাকার বাণিজ্যিক দোকানগুলো জরুরি ভিত্তিতে বিক্রির জন্য তারা গোপনে গ্রাহক খুঁজছেন। শুধু তাই নয়, মিরপুর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে থাকা ৩০ কোটি টাকার ভবন, ইস্কাটনের গার্ডেনিয়া টাওয়ারের ফ্ল্যাট এবং চার শ্যালকের নামে কাগজে-কলমে থাকা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ২০টি ফ্ল্যাটও তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মূল্যে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ক্রেতাদের সাথে দরদাম চলছে। সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের ৩৫ কাঠার রাজকীয় লাল ইটের বাংলোবাড়ি ‘সেঁজুতি’ এবং খামার ও গ্যারেজসহ সেখানকার ৩২০ কাঠার পাঁচটি বিশাল বাণিজ্যিক প্লট, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা, সেগুলোও বিক্রির তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে।
এমনকি রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্প, আমেরিকান সিটি, ডুমনি মৌজার পিংক সিটি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি ও গাজীপুরের কালিগঞ্জে থাকা শত বিঘা মূল্যবান জমিও বিক্রি করতে তার দালাল চক্র দেশের বড় বড় আবাসন কোম্পানির সাথে গোপনে বৈঠক করছে। এই বিশাল সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে যে শত শত কোটি টাকা এককালীন আসবে, তা যেন কোনোভাবেই ব্যাংকিং চ্যানেলে আটকে না যায়, সেজন্য তিনি আগেভাগেই দেশের শীর্ষস্থানীয় ও পরিচিত হুন্ডি চক্রের একাধিক আন্তর্জাতিক চ্যানেলের সাথে কথা বলে রেখেছেন। দেশ থেকে পাচার করা এই কালো টাকা সরাসরি কানাডায় ও তার পরবর্তী গন্তব্যের গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের সমস্ত ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় মন্তব্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।
এনবিআর এর শহিদুলের সকল সম্পত্তির ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এখনই যদি সরকার এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত না করে ভবিষ্যতে সরকারের আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে।