আদালতে জাল নথি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা মকবুল হোসেন সরদার
সমবায় অধিদপ্তর সমবায় সমিতির নিবন্ধন, তদারকি, আইনগত পরামর্শ প্রদান এবং সমবায়ীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু সমবায় অধিদপ্তরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুদীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ধারাবহিকতায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে সমবায় অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধূ কর্মকর্তা সহায়তায় আদালতে ভুল তথ্য ও জাল নথি পেশ করে একটি সমবায় সমিতির সভাপতির পদ দখলের ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। মকবুল হোসেন সরদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয় শিল্প সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি দাবী করে বিগত ১৮ মে, ২০২৬ তারিখে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রীট পিটিশনে (নং ৬৪৬০) নিজেকে সভাপতি হিসাবে দাবী করেছেন| বাংলাদেশ জাতীয় শিল্প সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচিত সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা উক্ত রীটের বিষয়ে জানিয়েছেন- নির্বাচনের তফশিল, ভোটার তালিকা, ’সংশোধিত (পূণ:গঠিত) নির্বাচন কমিটি/শূণ্যপদ পূরণকৃত নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি (০৯-০২-২০২৬)’ ইত্যাদি নথিতে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব নথি ব্যবহার করেছেন সেসব নথি জাল করে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করেছেন এবং মহামান্য আদালতের সম্মুখে মকবুল হোসেন সরদার জালিয়াতির ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন|
মকবুলের স্ত্রী যুব মহিলালীগ নেত্রী জান্নাত জাহান চামেলী (লুনা হোসেন) নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এর স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাহিদা সুলতানা যূথীর বান্ধবী। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে স্ত্রীর কৃপায় ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ফজলে নূর তাপসের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিঃ এর মালিকানাধীন দখলকৃত দোকানমূহে যেমন দখলদারিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল; ফ্যাসিস্টের পতনের পর নিজগুণে উক্ত সমিতির মালিকানাধীন ৩(তিন) টি দোকানের অবশিষ্টাংশ দখলপূর্বক নিউমার্কেট এলাকায় একাধিপত্য বজায় রেখে চলেছে। উক্ত জদোকান দখলের পরিক্রমায় মকবুল হোসেন সরদার প্রথমতঃ তার স্ত্রীর নামে জাল ভাড়াটিয়া চুক্তি সৃজনপূর্বক ২০১৪ সালে ৩টি (দোকান নং-২৬১,২৬২ও ২৬৩) দোকানের অর্ধাংশ এবং ৫ আগস্ট, ২০২৪ সালের পর অবশিষ্ট অংশ সমবায় অধিদপ্তরের উপরোক্ত অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় দখল করে। বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিঃ এর সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা মকবুল সরদার ও তার স্ত্রীর অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, সাংবাদিক সম্মেলন, অভিযোগ দায়ের ও প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকী দেয়া হয়েছে এবং মব সৃষ্টির উদ্দেশে শতাধিক সন্ত্রাসীসহ মতিঝিলস্থ কার্যালয়ে বিগত ২৫-০২-২০২৬ইং তারিখে দিনে দুপুরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। সমিতির সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তাকে শারিরীকভাবে নাজেহাল করেছে। দোকান দখল, নির্বাচন বন্ধ করতে অশুভ শক্তির তৎপরতা, কার্য্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর, মবসৃষ্টি-প্রতিটি বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালককে অবহিত করে প্রশাসনিক সহযোগিতা চাওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তারা তাঁর পাশে দাঁড়াননি বরং সমবায় নীতি অনুযায়ী দায়িত্বশীল ইতিবাচক ভূমিকার স্থলে তারা দখলদারের পক্ষে অবস্থান নেয়। মকবুল হোসেন সরদার ও তার স্ত্রীর মব সৃষ্টি, প্রাণনাশের হুমকী ইত্যাদি বিষয়ে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডাইরী অন্তর্ভূক্ত করার আবেদন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি। এবিষয়েও সমবায় অধিদপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয় অথচ মকবুলের স্বার্থ নষ্ট হতে পারে বিধায় তারা এগিয়ে আসেননি। উক্ত বিষয়ে তিনি পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করেন যা তদন্তাধীন আছে। একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের এহেন বিরূপ আচরণে ক্ষুদ্ধ বাংলাদেশ জাতীয় শিল্প সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা- নিরুপায় হয়ে সুবিচারের আশায় অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বর্তমানে তিনি মকবুল হোসেন সরদারের হুমকী-ধামকীতে প্রাণনাশের শঙ্কায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মকবুল হোসেন সরদার ও তার স্ত্রী লুনা হোসেন এর যৌথ চাঁদাবাজি, জাল জালিয়াতি, দোকান ও সম্পত্তি দখল ইত্যাদি বিষয়ে গণমাধ্যমে বহু সংবাদ প্রচার হলেও এরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিল।
বর্তমানে মকবুল হোসেন সরদার ও তাঁর স্ত্রী যুবমহিলালীগ নেত্রী জান্নাত জাহান চামেলী (লুনা হোসেন) সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সমবায় অধিদপ্তর পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় পুরো সমিতিটিকে গ্রাস করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে এবং অধিদপ্তরের একটি অংশ তাদের অপকর্মের সহযোগী হয়ে পড়েছে। তারা মকবুল হোসেন সরদার ও তার স্ত্রী যুবমহিলালীগ নেত্রী লুনা হোসেনের অবৈধ দখলকে বৈধতা দানে নির্বাচিত সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তার স্বাভাবিক কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত করছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং শিল্প সমবায় সমিতির নিয়মিত নির্বাচন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিতরণ অবস্থায় মকবুল হোসেন সরদার প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসীসহ সমিতির কার্যালয়ে হামলা করে ও সভাপতির ওপর মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটায়|
দুঃখজনক হলেও সত্য মনোনয়ন ফরম বিক্রির দিনে (২৫-০২-২০২৬) নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে মকবুল হোসেন সরদার প্রায় শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সমেত মতিঝিলস্থ কার্যালয়ে হামলা করে সভাপতিকে একটি কক্ষে আটক রেখে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং তাঁকে শারিরীকভাবে নাজেহাল ও প্রাণনাশের হুমকী দেয় এবং যাবার সময় মূল্যবান নথিপত্র ও নগদ অর্থ লুট করে সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধপূর্বক হুমকী দেয়- “আজ থেকে আমিই সমিতির সভাপতি, তুই আর এই অফিসে আসবিনা”। উক্ত ঘটনার পরপরই নির্বাচন কমিটির প্রধান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে পত্র মারফত জানান। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধ পরিকর থাকলে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে পারতেন অথচ পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে যে ধরণের পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা তিনি নেননি। কুচক্রী মহলের সাজানো ছক বাস্তবায়ন ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মকবুল হোসেন সরদারের গোপন যোগসাজশে এমনটি করা হয়েছে বলে সমিতির সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা দাবী করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে- অবৈধ দখলে থাকা সম্পত্তি চিরস্থায়ীভাবে ভোগ দখল রাখার উদ্দেশে সমিতির নির্বাচিত সভাপতিকে স্বীকৃত না দিয়ে বহিরাগত দখলদার মকবুল হোসেন সরদারকে অবৈধভাবে সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি এবং সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার ভয়াবহ অপকর্মে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসূত্রতা রয়েছে।
সমবায় অধিদপ্তর প্রথম থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নিয়মিত নির্বাচনের পক্ষে ছিলনা। সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ এর ২৬(১) অনুযায়ী সমিতির সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তা বিগত ১৯-০১-২০২৬ইং তারিখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়োগের পত্র প্রদান করেন। কিন্তু সমবায় অধিদপ্তর থেকে কোন প্রকার সাড়া দেয়া হয়নি। উক্ত সময়ে তিনি সমবায় অধিদপ্তর কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন- সমবায় অধিদপ্তর অন্তর্বতীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রদানের পক্ষে। পরবর্তীতে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর ফরম-ক মোতাবেক তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করা হলে সমবায় অধিদপ্তরের মাননীয় নিবন্ধক ও মহাপরিচালক অনেকটা বাধ্য হয়েই বিগত ০৯-০২-২০২৬ইং ০৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠণ করেন । বিধি মোতাবেক, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশপূর্বক নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাদের পূর্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিকল্পিতভাবে সমিতির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটানো হয়।
সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক নবীরুল ইসলাম ও যুগ্ম নিবন্ধক (প্রশাসন-মাউশি) মিজানুর রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের সবার বাড়ী একই অঞ্চলে হওয়ায় তদের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেটের কাছে শিল্প সমবায় সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই তাদের কাছে জিম্মি । মো. নবীরুল ইসলাম ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সমবায় অধিদপ্তরে চাকরিতে প্রবেশের শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সমবায় অধিদপ্তরে যোগদান করলেও তার পিতা মো. সহিদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেননা। দুদকের তদন্তে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২০০২ সালের ১৫ জুন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে তিনি দায় মুক্তি লাভ করেন এবং আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে তিনি বর্তমানে অতিরিক্ত নিবন্ধক হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
অথচ পদোন্নতি তো দূরের কথা তিনি চাকুরীতে থাকারই কথা নয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে নবীরুল ইসলাম বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, লাইসেন্স সিন্ডিকেটসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত নিবন্ধক পদে পদোন্নতি নিয়েছেন।
নবীরুল ইসলামের সকল অপকর্মের সহযোগী যুগ্ম নিবন্ধক (প্রশাসন মাউশি) মিজানুর রহমান ও ঢাকা বিভাগীয় যু্গ্ম নিবন্ধক মোঃ কামরুজ্জামান। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতিদমন কমিশনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দাসংস্থার কাছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তথ্য থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় অধিদপ্তরে সৎ ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অন্তর্ভূক্ত সমবায় সমিতিসমূহের প্রতি বিরূপ আচরণ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত প্রশাসনিক সহযোগিতা না করা, জটিলতা নিরসণের স্থলে জটিলতা সৃষ্টি ও দীর্ঘায়িত করা, সমিতির মালিকানাধীন সম্পত্তি পূণরুদ্ধারে সহযোগিতা না করে অবৈধ দখলদারদের সাথে যোগসাজশে দখল দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও আর্থিকভাবে লাভবার হবার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সমবায় অধিদপ্তরের অন্তর্ভূক্ত নিবন্ধিত সমবায় সমিতিসমূহের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, অডিট নিষ্পত্তিতে গড়িমসি, বহিরাগত ও সমিতির সহায় সম্পত্তি অবৈধ দখলে রাখা বহিরাগত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগসাজশে আর্থিকভাবে লাভবান ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষার অভিযোগ উঠেছে। শিল্প সমবায় সমিতিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকার বিপরীতে বহিরাগত দখলদারদের স্বার্থ রক্ষায় এই সিন্ডিকেট অধিক সচেষ্ট বলে জানা গেছে। জুলাই-২৪ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও এসব অসাধু কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে আছে এবং বহিরাগত ও অবৈধ দখলদারদের সাথে তাদের গোপন অভিসন্ধি বাস্তবায়নে যৌথ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তাদের সমবায়বিরোধী কার্যকলাপ ও সমবায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে নিবন্ধিত শিল্প সমিতিসমূহের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসর এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কবল থেকে সমবায় অধিদপ্তরকে উদ্ধারে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ সকল মহলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস জরুরী।