রাজধানীতে সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রবির
রবি আজিয়াটা পিএলসি বৃহত্তর ঢাকাজুড়ে তাদের মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপক আধুনিকায়ন কার্যক্রমের কাজ সম্পন্ন করেছে। দেশের সবচেয়ে বেশি ডেটা ব্যবহার হওয়া এই অঞ্চলে সংযোগ সেবার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে রবি।
বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি জেলা আধুনিকায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রবির দাবি, এরই মধ্যে ঢাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুতগতির ডেটা সেবা, আরও পরিষ্কার ভয়েস কল এবং আরও শক্তিশালী ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজের সুবিধা পাচ্ছেন।
ঢাকার এই নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন রবির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। এই কাজে নতুন প্রজন্মের “গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি” প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী, ভবিষ্যৎ উপযোগী এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এখন রবি আধা-শহুরে (সেমি-আরবান) এলাকায় নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করার দিকে নজর দিচ্ছে, যাতে এসব এলাকার দ্রুত বর্ধনশীল গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যায়।
গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বৃহত্তর ঢাকায় ৪,৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গ্রাহকসেবায় প্রায় কোনো বিঘ্ন ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ডেটার গতি বেড়েছে, কল ড্রপ কমেছে এবং গ্রাহকরা ইনডোর আরও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন।
নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্সেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে। বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরের গ্রাহকরা ইনডোর আগের তুলনায় তিন গুণ ভালো কভারেজ ও সংযোগ পাচ্ছেন। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে। এটি রবির টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
এই আধুনিকায়নের ফলে রবির তরুণদের জন্য তৈরি ডিজিটাল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড সার্কেল-এর গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে। ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বেশি ডেটা প্রয়োজন এমন বিভিন্ন কাজে তারা আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ পাবেন। গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং ঘরের ভেতরের নেটওয়ার্ক মান উন্নত করার মাধ্যমে ঢাকায় নেটওয়ার্কের নেতৃত্বের দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমানভাবে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত তরুণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন রবির চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামে আহমেদ মেতাওয়েহ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আমাদের সরকার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে রবির নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগ দেখে আমি উৎসাহিত। এই মাইলফলকের জন্য রবিকে অভিনন্দন জানাই। সব নাগরিকের কাছে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে মোবাইল অপারেটরদের তাদের নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।”
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “শিল্পখাত আরও পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানই এখন প্রতিযোগিতার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ঢাকার নেটওয়ার্ক নতুন করে সাজিয়ে রবি তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। গ্রাহকরা ভালো মানের সেবা পেলে সেটি সবার জন্যই লাভজনক।”
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী বলেন, “একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি বুঝতে পারি, মাত্র তিন মাসে প্রায় ৫,০০০টি সাইটে কাজ সম্পন্ন করা একটি অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর অর্জন। এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য আমি বিশেষভাবে রবি টেকনোলজি টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে রবিকে দ্বিগুণ অভিনন্দন প্রাপ্য। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এই মুহূর্তে আমাদের ঠিক এ ধরনের উদ্যোগই প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও জিয়াদ সাতারা ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঢাকায় এখন রবির নেটওয়ার্ক সবচেয়ে শক্তিশালী।
তিনি জানান, রবি শিগগিরই চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজও শেষ করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা মানের নেটওয়ার্ক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে। তার ভাষায়, এই শ্রেষ্ঠত্ব শুধু বিজ্ঞাপনে নয়, বাস্তব নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতাতেও দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “আধুনিকায়নের ফলে আমাদের নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে, কারণ সেখানে আমাদের নতুন সাইট প্রয়োজন। নতুন সাইটের জায়গা পাওয়া এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ঢাকার প্রতিটি এলাকায় একই মানের সেবা পৌঁছে দিতে সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির জরুরি সহযোগিতা চাই।”
রবি ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে নতুনত্ব এনেছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সব ৬৪ জেলায় ৪জি সেবা চালু করে। বর্তমানে রবির ৪জি গ্রাহকের হার ৭২ শতাংশ, যা দেশের মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রবি দেশের প্রথম অপারেটর হিসেবে নির্দিষ্ট উচ্চ-ট্রাফিক এলাকা, যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে, বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু করে।
২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে রবি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৯,৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। এই সময়ে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৩,১৭৩ থেকে বেড়ে ১৯,৬৪৬টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে রবির স্পেকট্রামও ৩.৪ গুণ বেড়ে ১২৪ মেগা হার্টজ হয়েছে।
শুধু ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (কিউ২) রবি ৭২১.৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৯,৬০০ ছাড়িয়েছে এবং দেশের জনসংখ্যার ৯৮.৯৮ শতাংশ এখন রবির ৪জি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায়।
