ঢাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি ঢাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে দল ও মতের কোন সম্পর্ক থাকবে না। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষিতদের সততা ও আন্তরিকতার সাথে মাঠ পর্যায়ে নির্ভুলভাবে ডাটাবেজ তৈরিতে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আজ আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দু’দিনব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বক্তৃতা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, ‘পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর যে কনসার্ন , সেই প্রেক্ষিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই। মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চার বছর পর্যন্ত চলবে। সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কন্টিনিউয়াসলি চলবে এবং দুই মাস পর পর রিভিউ করা হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রশিক্ষণকালীন আপনাদের নলেজ শেয়ার করবেন এবং ট্রেনিংটাকে সত্যিকার অর্থে একটা ফ্রুটফুল, মিনিংফুল ট্রেনিং নিবেন। যাতে আপনাকে কেউ প্রশ্ন করলে আপনি সেগুলো সমাধান ও অনুসন্ধান যথাযথভাবে উত্তর দিতে পারেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় শপথ নেওয়ার পর ১০ দিনের মাথায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করছে। নারীদের ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট।
তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং এর কাজ শেষ করেছি । এখন অক্টোবর থেকে সারা দেশব্যাপী প্রায় ৪১ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।
এ ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য সারাদেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই সংগ্রহের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আপনাদেরকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ লব্ধজ্ঞান মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ডাটাবেজ তৈরিতে সহায়ক হবে।
তিনি আরো বলেন, ট্রেনিং সেশনের মেইন জিনিসটা হচ্ছে আন্তরিকতা। আমরা গভর্নমেন্টের ফ্যামিলি কার্ডের প্রজেক্টটাকে কতটা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে পারছি। এ প্রশিক্ষণে ১০০ জন আন্তরিক মানুষ যদি তৈরি হয়, সে ১০০ জন আন্তরিক মানুষ কিন্তু প্রতি জনে আরো ১০০ জন করে আন্তরিক মানুষ তৈরি করতে পারবে এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরিতে করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ডাটা কালেকশন কেবলমাত্র ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সীমাবদ্ধ না। আপনারা জানেন যে, আমরা ইন্টিগ্রেটিভ সিস্টেমের কথা চিন্তা করছি। যেখানে একটি কার্ড থাকবে। যে কার্ডের মাধ্যমে সকলকের তথ্য সংরক্ষণ থাকবে, এরফলে অনেক ধরনের ডুপ্লিকেশন আমরা বন্ধ করতে পারব, ডাবল ক্লিপিং বন্ধ করতে পারবো, ক্রাইম বন্ধ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, একজনের সিমকার্ড দিয়ে আরেকজন ক্রাইম করে, সিম তোলে একজনের নামে আর থ্রেট দেয় আরেকজনের ফোনে। এগুলো সমস্ত কিছু বন্ধ করা যাবে শুধুমাত্র যদি আমরা সঠিকভাবে ডাটা কালেকশনগুলো করতে পারি।
ডাটা ইজ দা নিউ ফিচার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা সময় বলা হতো টাইম ইজ মানি , এখন মূল্যবান জিনিস হচ্ছে ডেটা ইজ মানি। বাংলাদেশের সকল মানুষকে একটা ডাটাবেজের আওতায় আনতে পারলে এই ডেটা দিয়েই সকল কাজ সহজ হবে বলে আমি মনে করি । সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এদেশের মানুষের জন্য কি কাজ করে মানুষ আগে তেমন ভাবে জানতো না । সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডাটাবেজ তৈরি হয়ে গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রাফটা উপরের দিকে উঠবে এবং মানুষ জানতে পারবে।

আরো