বিটিআরসির কিউওএসে ১১ সূচকের ৮টিতে শীর্ষে বাংলালিংক

জেলা-উপজেলা পর্যায় সহ সব স্তরের নেটওয়ার্কে সেবার মানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) জুলাই ২০২৬-এর কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) বা সেবার মানসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসের ‘সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটরস’ শীর্ষক বিটিআরসির মাসিক কিউওএস প্রতিবেদনে ১১টি মূল কর্মদক্ষতা সূচক বা কেপিআইয়ের মধ্যে ৮টিতে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলালিংক। নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স, সেবার মান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত কোয়ালিটি অফ সার্ভিস–সংক্রান্ত শর্ত পূরণে বাংলালিংক সবসময় সচেষ্ট, যার ফলস্বরুপ এই স্বীকৃতি।

বিটিআরসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটকসহ সকল মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো মোবাইল অপারেটরদের জমা দেওয়া কিউওএস সমন্বয়, পর্যালোচনা ও যাচাই করেছে বিটিআরসি। যাচাইকৃত পারফরম্যান্স প্রতিবেদন এখন জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বাংলালিংক যে আটটি সূচকে শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো হলো টুজি কল সেটআপ সাফল্য, ফোরজি অ্যাভারেজ ইউজার ইকুইপমেন্ট (ইউই) থ্রুপুট ডাউনলিংক, ফোরজি ই-র‍্যাব নন-রিটেইনেবিলিটি, ভিওএলটিই (ভয়েস ওভার এলটিই) কল সেটআপ সাফল্য, ভিওএলটিই ড্রপ বা অস্বাভাবিক রিলিজ, মিক্সড ভয়েস সেটআপ সাফল্য, সিএসএফবি সাফল্য এবং এসএমএস সম্পন্ন হওয়ার হার।
বর্তমান কিউওএস মূল্যায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে মোবাইল নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ও মান যাচাই করা হয়। এর আগে মোবাইল অপারেটররা প্রধানত জাতীয় পর্যায়ে কিউওএস প্রতিবেদন জমা দিত। এসব তথ্য যাচাই ও সমন্বয়ের জন্য বিটিআরসির কোনো কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়াও ছিল না।
তবে বিদ্যমান কাঠামোতে অপারেটরদের জমা দেওয়া কিউওএস তথ্য স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা ও যাচাই করার প্রক্রিয়া চালু করছে বিটিআরসি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স সম্পর্কে আরও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

এই অর্জন সম্পর্কে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, “নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও এর পরিচালনার দিকে আমরা যে গুরুত্ব দিচ্ছি, এই অর্জন তারই ফল। অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সেবার মান ধরে রাখা এবং গ্রাহকদের জন্য স্থিতিশীল সেবা ও সারা দেশে নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

বাংলালিংক বাংলাদেশের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে, যার ভিত্তি হলো নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি। স্টারলিংক-এর ডাইরেক্ট-টু-সেল স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি চালুর মাধ্যমে দেশজুড়ে সংযোগের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি, ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনডোর কভারেজ ও কলিং অভিজ্ঞতা উন্নত করা হচ্ছে। কানেক্টিভিটির পাশাপাশি, বাংলালিংক পরিচালনা করছে দেশের সবচেয়ে বড় ইনফোটেইনমেন্ট-কেন্দ্রিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি, এবং এখন তাদের পেমেন্ট সাবসিডিয়ারি মুক্ত পে-এর মাধ্যমে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রবেশ করছে। এই সব সক্ষমতাকে একত্র করে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য একটি এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরি করছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের সংযুক্ত করা, যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা, বিনোদন পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা প্রদান করা।

আরো