আপনি তো বিরাট আওয়ামীলীগ ছিলেন, সরাইল থানার ওসিকে বললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় গিয়ে ওসির সাথে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এমপি বলেন, অনেক বড় আওয়ামী লীগ ছিলেন আপনি।
এ সময় ওসির বিরুদ্ধে দূর্নীতি, মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়, ফোন না ধরার বিষয়ে অভিযোগ তোলেন রুমিন। পাশাপাশি “ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভঙ্গিতে” কথা বলার বিষয়ে ওসিকে সতর্ক করেন তিনি। এ সময় রুমিন ফারহানার সাথে অনেক কর্মী-সমর্থক ছিলো।
অন্যদিকে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরির অভিযোগ তোলেন ওসি। পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও করে রাখতে নির্দেশ দেন। এমপির সাথে মামলার কোনো আসামী এসেছেন কিনা জানতে চান।
রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি মামলার আসামী। আমার বিরুদ্ধে ৮-১০টা মামলা আছে। রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বলা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া নিরাত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করেননি। নিরাপত্তা না দেয়ার কারণ এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা এমপি। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি থানায় ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এমপির সাথে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, “আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই”।
ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এমপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। ওনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নেই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সাথে পুলিশের একটি টিম রাখা ওই সময় কঠিন ছিল।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ওনি (ওসি) বলেন যে ওনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে।
তিনি আরও বলেন, তিনি মাটির ব্যবসা থেকে টাকা নেন, ইটের ব্যবসা থেকে টাকা নেন, আপনি নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে টাকা নেন। তিনি আরও বলেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আপনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ এনে আপনাকে সরানোর জন্য মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে আপনি সেই ওসি।
এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি আজকে জানতে এসেছিলাম। ওনি যেই ব্যবহার আমার সাথে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সাথে করা যায় না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরো