ভার্চুয়াল বাস্তবতা ও কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা: আমাদের ভবিষ্যৎ

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম: আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, ভিজ্যুয়াল শিল্পী ও লেখক জেরন লেনিয়ার (Jaron Lanier) ভার্চু্য়াল রিয়েলিটির গডফাদার এবং সকল ওয়েবের ঋষি। যিনি ‘হতাশ আশাবাদী’ (dismal optimist) নামেও পরিচিত। তিনি ভিআর (Virtual Reality) প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের জন্য ভিপিএল গবেষণার সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ল্যানিয়ার ছিলেন ইহুদি পিতামাতার একমাত্র সন্তান। তার বয়স যখন মাত্র ৯ বছর, তখন তার মা ড্রাইভিং টেস্ট পরীক্ষার সময় ফ্রিওয়েতে গাড়ি উল্টে মারা যান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং তিনি গাণিতিক স্বরলিপিতে স্নাতক-স্তরের কোর্স গ্রহণ করেন, যা তাঁকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের দিকে ধাবিত করে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ছাগল পালনকারী, পনির প্রস্তুতকারক এবং একজন ধাত্রীর সহকারী হিসাবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। অতঃপর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় পথিকৃত গেমিং কোম্পানী Atari তে একজন গবেষক হিসাবে যোগদান করেন। সেখানেও তিনি একসময় অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়লেন, সেই সূযোগে তিনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রকল্পগুলিতে মনোনিবেশ করেন। তিনি সহজেই একজন টেক বিলিয়নিয়ার হতে পারতেন যদি তিনি তার ব্যবসাগুলিকে সংবেদনশীলভাবে বিক্রি করতেন বা অন্ততঃ অর্থের প্রতি সামান্য আগ্রহ দেখাতেন। অথচ সম্পদের প্রতি নির্মোহ এই প্রযুক্তি সন্যাসী স্ত্রী ও একমাত্র কণ্যাসহ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রোজে বসবাস করেন।

সম্প্রতি জেরন লেনিয়ার নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত The New Yorker পত্রিকায় ‘ভার্চুয়াল বাস্তবতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে’ শিরোনোমে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি বলেছেন, “আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বিপদটি এই নয় যে একটি নতুন এলিয়েন সত্ত্বা আমাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে কথা বলবে এবং আমাদের দখল করবে এবং ধ্বংস করবে। আমার কাছে বিপদ হল যে আমরা আমাদের প্রযুক্তিকে পারস্পরিকভাবে দুর্বোধ্য হয়ে উঠতে ব্যবহার করছি। ফলে আমরা বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট বোঝাপড়া এবং আত্ম-স্বার্থ নিয়ে কাজ করছিনা এবং আমরা মূলতঃ উন্মাদনার মধ্য দিয়েই একসময় মারা যাই।” তবে উত্তেজনা বা উন্মাদনার মৃত্যু খুব আকর্ষণীয় হতে পারেনা। বিশ্বনেতা থেকে চরম উগ্রবাদী গোষ্ঠী বিশ্বব্যাপী ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারে বা ভুল তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে এমন অমানবিক ও অনাহুত মৃত্যু বা শঙ্কার কারণ হতে পারে। এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তিগুরু ল্যানিয়ার যা বলেছেন তা আরো প্রণিধানযোগ্য-“প্রযুক্তি যত বেশি অত্যাধুনিক হয়ে উঠবে, আমরা এটির ব্যবহারে করে তত বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারি। নৈতিক ও মানবিকভাবে কাজ করার জন্য দেহ ও মনের সুস্থতা তথা সদ্বিবেচনা অত্যন্ত জরুরী।”

সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি শিল্প ও সংস্কৃতির উপর নির্মিত প্যারোডিভিত্তিক মার্কিন কমেডি সিরিজ Silicon Valley দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। Michael Craig Judge, John Altschuler ও Dave Krinsky ত্রয়ের অনবদ্য সৃষ্টি এই সিরিজে Pied Piper নামে একটি স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রোগ্রামার Richard Hendricks চরিত্রে রূপদানকারী Thomas Steven Middleditch কিভাবে বৃহত্তর প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সিরিজটি সমালোচকদের প্রশংসার পাশাপাশি হাস্যরসের জন্য পরপর পাঁচটি Primetime Emmy Award পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। উক্ত সিরিজে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির এই নতুন উন্মাদনা মাদকাসক্তির মতই আমাদের স্মৃতিশক্তিকে নস্যাতের কারণ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তবে ভাল বা খারাপ যাই হোক আমাদের মাঝে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে অনেক উদ্বেগের কারণও রয়েছে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এমন কোন সময় আসেনি যখন হতাশাজনক আশাবাদের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। আজকাল কোন প্রবন্ধ পড়া বা পডকাস্ট শোনা কঠিন, আমাদেরকে কেউ বলেননা যে-আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আমাদের ভাগ্যকে ঠেলে দিয়েছি, আমাদের উন্মাদনা আমাদের তাড়া করতে ফিরে আসছে এবং রোবটরা বিশ্ব দখল করছে। চ্যাটবটগুলি আমাদের সেরা বন্ধু হয়ে প্রেমের ঘোষণা দিয়েছে, আমাদের স্থিতিশীল বিবাহ পদ্ধতিকে ব্যাহত করছে এবং পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সামাজিক বিশৃঙ্খলার হুমকিও রয়েছে। যদিও অনেক ডিজিটাল গুরু আদর্শবাদী হিসাবে শুরু করেছিলেন, তবে ল্যানিয়ারের কাছে এটি ছিল একটি অনিবার্যতা- এমন নয় যে, ইন্টারনেট আমাদেরকে ছিঁড়ে ফেলবে। আমরা বিনামূল্যে জিনিসপত্র চেয়েছিলাম (তথ্য, বন্ধুত্ব, সঙ্গীত), কিন্তু পুঁজিবাদ সেভাবে কখনোই কাজ করেনা। সুতরাং আমরা পণ্য হয়ে উঠলাম-আমাদের ডেটা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়েছে পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় এমন জিনিসও বিক্রি হয়ে যায়। ল্যানিয়ার সর্বদা হতাশ ছিলেন যে ইন্টারনেট অসীম বিকল্পগুলি অফার করার রূপ দিলেও প্রকৃতপক্ষে পছন্দ হ্রাস পেয়েছে। তাঁর ভাষায়-“আমরা সরাসরি অন্য কারো নিয়ন্ত্রিত একটি পছন্দ ভিত্তির সাথে সংযুক্ত যা ফানেলের মাধ্যমে খাওয়ানোর চেয়ে আসলেই বড় ছিল।”

আসলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চেতনা, সম্পর্ক, দেহ এবং উপলব্ধির প্রকৃতি অন্বেষণ করার একটি উপায় হতে পারে। অন্য কথায়, এটি শিল্পও হতে পারে। প্রযুক্তিগুরু লেনিয়ার চেয়েছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্ভাবনের একটি স্থান হিসাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আত্মপ্রকাশ ঘটুক এবং ভার্চুয়াল ডিভাইসের মাধ্যমে লোকেরা দলে দলে বাদ্যযন্ত্রের মতোই বিশ্ব অস্তিত্ব নিয়ে খেলা করুক এটা অনেকটা সুষ্পষ্ট সামাজিক স্বপ্ন বৈ আর কিছু নয়!

ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে জেরন লেনিয়ার শুরুতে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এখন সেসব বক্তব্যের সাথে তিনি এখন আর একমত নন। একটি বিকল্প মহাজাগতিক হিসাবে তিনি ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটিকে উপস্থাপন করেছেন যা সকলের জন্য ইতিবাচক প্রভাবে গ্রাস করার অনুষঙ্গ ছিল। প্রাথমিক বৈধতা ও পাওয়ার ট্রিপ হিসাবে তিনি আরো নম্রতার সাথে তিনি এটি করার আশা করেছিলেন। কিন্তু এটা এখন প্রায় অর্ধ শতাব্দীর পণ্য, মানুষ এখনও সেই ভিড়ে খোঁজে মরে। অ্যাপলের নতুন ধাতব ও কাচের স্কি-গগল-সদৃশ হেডসেটের প্রচারণামূলক ভিডিও-ভিশন প্রো-তে দেখানো হয়েছে লোকেরা কিভাবে প্রথমবার ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা নিয়েছে বা নিচ্ছে। লেনিয়ারের ভাষায়-“অ্যাপলের ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটিতে প্রবেশের সাংকেতিক ভারত্ব রয়েছে, কারণ কোম্পানিটি ইতোমধ্যে কম্পিউটার এবং ফোনের ওপর অত্যাধিক প্রভাব ফেলেছে। ম্যাকিনটোশ যখন ১৯৮৪ সালে চালু করা হয়েছিল, তখন ম্যাক টিমের কয়েকজন সদস্য আমার স্টার্টআপ ভিপিএল-এ যোগ দিতে অ্যাপল ছেড়ে যান এবং বাণিজ্যিক ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির প্রথম প্রজন্ম তৈরি করতে আমাদের সাহায্য করেন। তখন আমরা ধারণা করেছিলাম যে অ্যাপল নিজেই ২০১০ সালে বাজারে প্রবেশ করবে। আমরা জানতাম যে ভোক্তাদের প্রযুক্তি গ্রহণ অনেক দূরে ছিল। আমরা নাসার মতো গ্রাহকদের কাছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ভার্চুয়াল সরঞ্জাম বিক্রি করছিলাম। কিন্তু রক্ষণশীল ক্লায়েন্ট সত্ত্বেও, আমাদের প্রাথমিক ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির সফ্টওয়্যার ছিল আমূল বিষ্ময়কর।. আপনি আমাদের ভার্চুয়াল জগতে স্বপ্নাচারী থাকা অবস্থায় প্রোগ্রাম করতে পারেন-যেহেতু সোর্স কোডবিহীন সকল পরিবর্তণকে পাঠ্য প্রতীক হিসাবে নয় বরং ভার্চুয়াল অবজেক্ট হিসাবে দেখতে পাবেন। কীভাবে ভার্চুয়াল বাস্তবতা একটি “Post Symbolic” যোগাযোগের নতুন শৈলীর দিকে নিয়ে যাবে সেসব বিষয়ে মনঃসংযোগ করলাম, যেখানে আমরা একে অপরের জন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করব, সেগুলি বর্ণনার পরিবর্তে সরাসরি ভাগ করে নেব।”

ভার্চুয়াল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মধ্যবর্তী দশকগুলিতে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি দুটি “হত্যাকারী অ্যাপস” অনুসন্ধানে চরম সফলতা পেয়েছে। আপনি যদি গত ত্রিশ বছরে কারখানায় নির্মিত কোন যানবাহনে উড়ে চড়েন বা যাত্রা করে থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল বাস্তবতা একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। যোগাযোগের সেতুবন্ধন সৃষ্টির পাশাপাশি, আনন্দ ভাগাভাগিসহ ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি চেতনা মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, দেহ এবং উপলব্ধির প্রকৃতি অন্বেষণ করার একটি উপায় হতে পারে। অন্য কথায়, এটি শিল্প হতে পারে। একজন তরুণ প্রযুক্তিবিদ ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির এই মহা পরিবর্তনের আশ্রয়দাতা হতে চায়, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির সেই কোণগুলি দেখতে চায় যা অন্যরা পারেনা।আশির দশকের শুরুতে কাউকে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি কি তা বোঝাতে ডেমো দেওয়া অহংকার বৈ কিছু ছিলনা, কারণ সে সহসাই বুঝতে পারেনি যে-কী বলা হচ্ছে বা তাদের সাথে কী ঘটেছে।

প্রযুক্তিভাবনার আরেকটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয় হলো- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI)। বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতিকে বলা হয় শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি। মূলতঃ কৃত্রিম উপায়ে যন্ত্রকে বুদ্ধিমান বানানোর এই প্রযুক্তিই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আভিধানিকভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটার বা কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি ব্যবস্থা। বর্তমানে আমরা নতুন আরেকটি শিল্পবিল্পবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যাকে বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। আর প্রযুক্তিনির্ভর এই ডিজিটাল বিপ্লবের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে Artificial Intelligence (AI)। মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন ম্যাকার্থি (John McCarthy) ১৯৫৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন। এজন্য তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়। এরও আগে ১৯৫০ সালে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অ্যালান টুরিং (Alan Turing) কোনো যন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাচাই করার জন্য একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যা ‘টুরিং টেস্ট (Turing Test)’ নামে পরিচিত।

প্রকৃতপক্ষে মানুষ যেসব কাজ করে সেইসব কাজ সমূহ তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হচ্ছেই, পরন্তু, যেসব কাজ মানুষের দ্বারা করা কষ্টকর বা অসম্ভব, সেইসব কার্যসমূহ কিন্তু প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্র সমূহ অনায়াসেই করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত কর্তৃক চাঁদে প্রেরিত চন্দ্রযান-৩ এর কথায় বিবেচনা করা যাক। সেইখানে প্রেরিত তথ্য সংগ্রহকারী বস্তুটি প্রকৃত পক্ষে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট। অপরদিকে চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোনসমূহ যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে শত্রুপক্ষের সীমানায় নির্ভুলভাবে আঘাত আনছে।
বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন সব জটিল শল্য চিকিৎসা করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট দ্বারা যা মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব। বড় বড় কল কারখানাগুলোয় বিভিন্ন পণ্য সমূহকে আনা নেওয়ার কাজে মানুষের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্র।

আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবার অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত সব কাজই করা হচ্ছে যন্ত্রের মাধ্যমে। এমনকি কৃষিক্ষেত্রেও এমন সব প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রপাতির আগমন ঘটেছে যা বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত সব কাজ করে দিতে পারে কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমানে, শিক্ষা থেকে ব্যবসা এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নেই।

লিনিয়ারের মতে-“দুটি চরমের মধ্যে একটি রহস্য রয়েছে:. ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কি ধরণের খেলা হতে পারে? প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই প্রশ্ন দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং এখনও এই প্রশ্নের দ্বার উন্মুক্ত। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ও গেমিং কেন পুরোপুরি কাজ করে না এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আমার ধারণা একটি কারণ এই যে, গেমাররা গেমে আচ্ছন্ন না হয়ে গেমের চেয়ে বড় হতে পছন্দ করে। কেউ যখন খেলতে চায় তখন ছোট নয়, “স্টার ওয়ার্স” হলোগ্রাফিক দাবার প্রভাবে বড় মনে করেই সে খেলতে চায়। অ্যাপলের প্রাথমিক রাউন্ডের ভিশন প্রো অ্যাপগুলি প্রতিযোগীদের কাছে সম্পূর্ণরূপে বাধ্যতামূলক নয় যেসবে ক্ষতির পূর্বাভাষদানকারী ডাইস্টোপিয়ান ফ্লেভারও থাকতে পারে। আমার বিশ্বাস খুব দ্রুতই দৈনন্দিন হত্যাকারী অ্যাপস আসবে। হয়তো আপনি ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করবেন। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান, ছুটি ও হোটেল পরিষেবা সংক্রান্ত Airbnb সম্পর্কে আমরা সবেমাত্র জানতে পেরেছি। IKEA ব্যবহার করে হয়তো আমরা বিশ্বের যেকোন প্রান্তে আসবাবপত্র , রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি, সাজসজ্জা, বাড়ির আনুষাঙ্গিক, এবং অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং বাড়ির পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবো।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমাগত উন্নতির ফলে চাকরির বাজার সংকোচনের পাশাপাশি বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে সবাই চিন্তিত তা হলো মানুষ দ্বারা সৃষ্ট এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্রগুলো কি ভবিষ্যতে মানব সভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে? তবে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যাই হোক না কেন প্রযুক্তির ব্যবহার আজ সর্বমহলে স্বীকৃত। যন্ত্রকে মানুষের মতো আবেগ অনুভূতিপ্রবণ করার কাজও চলছে। যুগোপযুগী প্রযুক্তি নির্ভরতা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি ত্বরান্বিত করবে নিঃসন্দেহে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও গবেষক
taazabdullah@gmail.com

আরো