নিউমার্কেট এলাকা দুবৃত্তদের অভয়ারণ্য: প্রশাসন নির্বিকার

৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সূযোগে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে। তাদের সংগঠিত অপকর্মে (Organized Crime) ব্যবসায়ীমহলে চরম অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডস্থ মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটির সামনের রাজপথে ব্যবসায়ী নেতা ও মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক ভূইয়ার ওপর দুবৃত্তদের হামলায় ও গুরুতর আহত হবার ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক হয়ে সেই চিত্র ফুঁটে উঠেছে যাতে ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্যনীয় হলেও কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রাখলে প্রকৃত আসামীর ধরা পড়বে এটা হলফ করে বলাই যায় তবে আইনের ফাঁক-ফোঁকড়ে ছাড়া পেয়ে বা অতীতের মত জেলখানায় বসেও কলকাঠি নাড়বেনা এমনটি নিশ্চয়তা দেয়া যায়না। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটলে ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা বলা শুরু করবে ‘আগেই ভাল ছিলাম’।

রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও ধানমন্ডি এলাকার মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারসহ নিউমার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা, হকার্স মার্কেট, গাউসিয়া, চাদনী চক, মিরপুর রোডের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কার পার্কিং, ফুটপাত, পানির ব্যবসা, ডিশের ব্যবসা যারা নিয়ন্ত্রণ করছে বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অত্র অত্র এলাকার সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক কথা বলে জানতে পেরেছেন যে মার্কেটগুলো নিয়ন্ত্রণে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃৃত্বেরও দায় রয়েছে। ইতোমধ্যে নিউমার্কেট থানাসহ নগরীর বিভিন্ন কমিটি বাতিল করা হয়েছে, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে।

ঢাকা গভঃ নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অফিস মকবুল হোসেন সর্দারের নেতৃত্বে দখল করা হয়েছে। তার স্ত্রী ও যুব মহিলালীগ নেত্রী লুনা হোসেন ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সমবায় শিল্প সমিতির মালিকানাধীন নিউমার্কেটের দোকান নং- ২৬১ ও ২৬২ (অংশ) এবং ৫ আগস্ট, ২০২৪ স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর মকবুল হোসেন সর্দার দলবল নিয়ে উপরোক্ত সমিতির মালিকানাধীন দোকান নং-২৬২ (অংশ) ও ২৬৩ দখল করে নেয়। সমিতির সভাপতি নিউমার্কেট থানায় দোকান উদ্ধারের জন্য সহায়তা ও জিডি করতে চাইলে বর্তমান তার জিডি গ্রহণ করেনি। বরং মকবুল হোসেন সর্দার সভাপতি লিপিকা দাস গুপ্তার নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের। এটুকু করেও মকবুল ক্ষান্ত হয়নি বরং বাংলাদেশ শিল্প সমবায় সমিতি লিঃ এর মতিঝিলস্থ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সমিতির সভাপতি মতিঝিল থানায় জিডি করলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তদন্তকাজ বাঁধাগ্রস্ত করছে। প্রধান উপদেষ্টা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কাছে সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বরং মকবুল রাজনৈতিক আনুকুল্য পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়েছে এবং তাকে বংশাল জোনের প্রধান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মকবুল হোসেন সর্দার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নামে তার লোকজন দিয়ে নিউ মার্কেটের কার পার্কিং, সংলগ্ন ফুটপাত ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। নিউ সুপার মার্কেটের সমিতি অফিস শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী দখলে নিয়ে উক্ত মার্কেটে অনুরূপ বাণিজ্য ও অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। মুন্না, কাউসার সিকদার, আলমগীর, আমির হোসেন, দয়াল মিজানের নেতৃত্বে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা সহস্রাধিক। বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে বিপ্লব সরকার, গিয়াসউদ্দীন গেসু, ফরমান মোল্লাদের সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেমন তটস্থ এঝনো তাদের ভয়ে তারা তটস্থ থাকে।

রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতার কারণেই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা তৈরী হয়। রাজনীতিকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে, সুন্দর ও বৈষম্যহীন জাতি উপহার পাবেন।

সাম্প্রতিক গণ অভ্যুত্থান সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী ও প্রকৃত ব্যবসায়ী চিহ্নিত করার ও সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার সেই সূযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আমরা এই সূযোগকে কাজে লাগাতে পারলে রাজপথে নিজ ব্যবসাকেন্দ্রের সম্মুখে এমন লোমহর্ষক ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটবেনা এবং ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার শিকার হয়ে পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগের কারণ হবেননা, এটাই সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা।

আরো