চাকরি ফেরত চাওয়ায় সিকিউরিটি ও ভাড়াটে লোক দিয়ে হামলা করেছে ইবনে সিনা

অন্যায় ভাবে চাকরিচ্যুত করা কর্মীরা চাকরি ফিরে পেতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গেলে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের পালিত গুন্ডাবাহিনী। আজ সোমবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকার আসাদগেট এলাকায় ইবনে সিনা প্রধান কার্যালয় সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় কর্মীদের মারধর করে হেনস্তা করা হয় এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে তাদেরকে চাকরীচ‍‍্যুত করার পর তারা চাকরি ফেরত দেয়ার আবেদন করলে ইবনে সিনা ফার্মা সিটিক্যাল এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা চাকরি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন। একাধিকবার আশ্বাস দিয়ে তাদের আন্দোলন থামাতে বলে পরে আর চাকরি ফেরত না দিয়ে তাদেরকে হুমকি দিতে থাকে। প্রথমে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করায় পুলিশ তাদের উপর কোন অ্যাকশনে যায়নি। যে কারণে আজ ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে তাদের উপর হামলা চালানো হয়।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের চাকরি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় চায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। অথচ ২৪ এপ্রিল কোম্পানির পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে জিডি করেছে। এ ক্ষেত্রেও চাকরিচ্যুত কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের অন্তত আড়াইশ কর্মীকে আকস্মিকভাবে ছাটাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এরা সকলে সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ করে চাকরি হারিয়ে এই কর্মীরা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চাকরি ফিরে পেতে তারা ঢাকার ধানমন্ডিস্থ প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে তারা একাধিকবার আন্দোলন স্থগিত করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এবার তারা আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন।

গত ৪ মে ইবনে সিনার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অনশনরত কর্মীদের সঙ্গে কথা হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় গোপন রেখে একাধিক আন্দোলনকারী জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এমডি হিসেবে থাকা সদরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। ভিন্ন সেক্টরের লোক হয়ে তিনি কিভাবে একটা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এছাড়া পরিচালক (মার্কেটিং) এর দায়িত্বে আছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ মোহাম্মদ বুলবুল। একজন চিকিৎকের পক্ষে মার্কেটিং সেক্টর চালানো অসম্ভব বলে দাবি করেন তারা।

আরো