১৯৯০ এর উদ্যোক্তা ৫৪ টি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ড্যাফোডিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান

ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ড. মো, সবুর খানের
১৯৯০ এ অগ্রযাত্রা শুরু। মো: সবুর খান সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাস করে উদ্যোক্তা হবার প্রবল ইচ্ছা শক্তি নিয়ে স্বল্পপরিসরে কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করে বর্তমানে ৫৪ টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ড্যাফোডিল ফ্যামিলি প্রতিষ্ঠাতা। শুরুতে কম্পিউটার ব্যবসা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বিভিন্ন প্রতিবন্ধতা মোকাবেলা করে, গ্রহক সন্তুষ্টিকে পুজি করে সেবার মান বজায় রেখে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লি: বর্তমানে ৬০০ কোটি টাকা মূল্যমানের প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে, দেশের প্রথম পাবলিক লিষ্টেড তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ম্যানুফেকচারিং প্লাট নির্মাণ করেন। তৎকালিন সরকারের অসহযোগিতা ও প্রতিশ্রæতি ভঙ্গের কারণে বিপুল বিনিযোগে অবকাঠামো তৈরির পরও অপারেশনে যেতে পারেনি। তারপরও গ্রাহক সন্তুষ্টি নিয়ে এগিয়ে চলছে।
নব্বই দশকে যখন বিদেশি মালিকানা ও আধিপত্য বিস্তার করা প্রতিষ্ঠান এপটেক/নিট ইত্যাদি প্রশিক্ষণের বিনিময়ে দেশের অর্থ বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে, সেসময় ১৯৯৭ সালে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (ডিআইআইটি) প্রতিষ্ঠা করেন। ডিআইআটি’র সাফল্যের ধরাবাহিকতায় বিদেশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আল্পসময়ের মধ্যে বন্ধ করতে বাধ্য হয়। অথচ ডিআইআইটি শিক্ষার মান বজায় রেখে এখনও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ডিআইআইটি’তে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত অনার্স বিষয়ে পড়াশোনা করছে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বেই ডিআইআইটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, এরই ধারাবাহিকতায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়-এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই ও প্রাণবন্ত শিক্ষা-ইকোসিস্টেম। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের গঠন একদিনে হয়নি। এর পেছনে রয়েছে স্বপ্ন, সময়, শ্রম, মেধা আর ভালোবাসা। এখানে প্রতিদিন জন্ম নেয় তরুণদের নতুন স্বপ্ন, নতুন উদ্যোগ, আর ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা। এই অনন্য শিক্ষা-ইকোসিস্টেমের প্রধান অনুপ্রেরণা-ড. মো. সবুর খান স্যার, যিনি GEN বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল পরিবারের পথপ্রদর্শক। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে স্যারের নেতৃত্বে কাজ করার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার বাস্তবায়নে তিনি সত্যিই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও, তিনি স্কুল, কলেজ, নার্সিং কলেজ, আইটি প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি উন্নয়নে উদ্যোক্তা তৈরিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, এবং মানব ও প্রাণী জীবন রক্ষায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার এই উদ্যোগগুলো শিক্ষার সীমা পেরিয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এক মাইলফলক স্থাপন করেছে।
এছাড়াও, অসহায়, দুস্থ, অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা, সততা আর স্বপ্নের পথ কখনো থেমে যায় না। সত্য সবসময় বিজয়ী হয়, আর একটি টেকসই শিক্ষা-ইকোসিস্টেম কখনোই মিথ্যা আর ষড়যন্ত্রের কাছে হার মানবে না।
মানসম্মত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ব্রত নিয়ে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন গুনাবলীতে আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত। যার সুনাম ইতোমধ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বপরিমন্ডলে বিস্তৃত। এরই মধ্যে অর্জন করেছে সবুজ ক্যাম্পাস, বিশ্ব র‍্যাংকিং এ শ্রেষ্ঠত্ব, গবেষনা ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের সুনাম। এলামনাইরা আজ বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপুর্ন অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুরু থেকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব

অর্থ্যায়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ল্যাপটপ বিতরণ করেছে। ফলশ্রুতিতে পড়ালেখা শেষ করে কর্মসংস্থানের জন্য তাদের সমস্যায় পড়তে হয়না। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫% শিক্ষার্থী স্কলারশিপে পড়াশোনা করছে, অথচ ইউজিসির নিয়ম ৫% শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপে পড়ানো। তাছাড়া কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শতভাগ পর্যন্ত পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য তিনি ড্যাফোডিল ফ্যামিলি/ব্যক্তিগত সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো তৈরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জমি আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন ও কিছু ব্যাক্তি মালিক থেকে ক্রয় করে দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করেন। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীসহ সর্বমহলে প্রশংসা পাচ্ছে। অন্যদিকে শুধুমাত্র বিব্রত করার উদ্দেশ্যে শতভাগ সরকারি নিয়ম কানুন পালন করার পরও বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী সনদ না দেয়া, রেড মার্ক করে রাখা, সাজেক্ট অনুমোদন না দেয়া, বিলম্ব করাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেছে। প্রতিষ্ঠাতাকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে টেক্স ফাইল বিগত সরকারের সময়ে ৫ বার পরীক্ষা/পুন:তদন্ত করেও কোন প্রকার ত্রুটি বের করতে পারেনি।
২০১৪ সালের মূল্য সংযেজন কর (ভ্যাট) বিরুধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরুধী ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অবদান উজ্জ্বল ও গৌরবের।
তাছাড়া সম্প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে সম্প্রতি প্রত্যাহার ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় স্থাপন করান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বকালীন সময়ে ২০০০ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করেন। তিনি জীবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বি করে তোলেন। বৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক শত শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ন খরচ বহন করে স্বাবলম্বি হতে সহযোগিতা করেছে। ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল সায়েন্স (ডিআইএসএস) এর মাধ্যমে কয়েকশত অনাথ ও পথশিশুকে ভরন পোষন ও শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান যুব সমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করার লক্ষ্যে অনলাইনে ১১ টি প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদান করেন, এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ প্রশিক্ষনার্থী ফ্রি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ২০১৭ সালে ড. মো. সবুর খান ঘোষনা দেন তিনি ড্যাফোডিল ফ্যামিলির এক তৃতীয়াংশ সম্পদ জনস্বার্থে দান করবেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পথচলায় সব সময় মসৃন ছিল না। বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চলতে হয়েছে। বিগত সরকারের ১৫ বছরে তিনি ৭১ টি মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে। প্রতিটি মামলায় সনাক্ত করা হয়েছে বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় বিএনপি মনোনীত চাঁদপুর-৩ আসনে মনোনীত প্রাথী হিসেবে। ড্যাফোডিল অনলাইন লি: লাইসেন্স ও ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরুধী আন্দোলনে ইন্দনদাতা হিসেবে ড. মো. সবুর খানকে ১ নং আসামি করে শেরে বাংলানগর থানায় মামলা করে গ্রেফতারের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে। বর্তমানে দেশ বিদেশে ড্যাফোডিল পরিবারের সেবার বিস্তৃতির বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়াতে ইনহাউজ মাল্টিমিডিয়া ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন এবং পরবর্তিতে তা বিক্রি করে দেন।
ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ সবসময় আর্থিকভাবে দুনীতিগ্রস্ত, নারী কেলেংকারিতে অভিযুক্ত ও নেশাগ্রস্তদের প্রশ্রয় দেয় না।
ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. সবুর খান দেশের কল্যাণে, দক্ষ মানব সম্পদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ণে শুরু থেকে অগ্রণী ভুমিকা রেখে আসছে। তাঁর অবদানের স্বিকৃতি স্বরুপ তিনি দেশ বিদেশে শত শত এওয়ার্ড ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। তিনি বর্তমানে এসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (এইউএপি) এর সভাপতি, এসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির এর সভাপতি, ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালাইনস এর সাবেক পরিচালক এবং গ্লোবাল ট্রেড কমিটি এর সাবেক সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি। তিনি বিসিএস এর সভাপতি দায়িত্বকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে কম্পিউটার পণ্যের ওপর কর চেষ্টা করেন, তাৎক্ষনিক সরকার থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষনা আসলে মামলা তুলে নেন। ২০১৩ সালে মো: সবুর খানকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো এর বাংলাদেশের কনস্যুলার জেনারেল নিযুক্ত করলেও ডিজিএফআই এর নেগেটিভ রিপোর্টের কারণে তা বাতিল হয়।
উল্লেখ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত না থাকায় দেশের প্রথম ডিজিটাল পত্রিকা ডিজি বাংলা, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, কার্ডিওকেয়ার হাসপাতাল, ই-ট্রাভেলস, ই-সিকিউরিটিজ, মেট্রোনেট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেন।
সর্বোপরি ড্যাফোডিল পরিবার গড়ে তুলতে ৩৫ বছর দীর্ঘ সময়য়ে হাজার হাজার কর্মীর পরিশ্রমের ফলের ধীরে ধীরে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এ পরিবারে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও প্ররোক্ষভাবে ৩৫ হাজার লোক জড়িত। কোন অনিয়ম প্রতিয়মান হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখেন। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো হীন মানসিকতা পরিত্যাগ করা উচিত। প্রতিষ্ঠান চলমান না থাকলে কর্মরত হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ চিন্তা করা উচিত। গ্রাহক, শুভাকাঙ্গী, শিক্ষার্থীসহ সর্বমহলে ভুল তথ্যের সাথে বাস্তবের মিল খুজে না পাওয়ায় বিব্রতবোধ করছে। ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সর্বমহলের সহযোগিতা জরুরী।

আরো