ব্যবসা গুটিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টায় চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা হারুন

মুনিরুল তারেক: চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র মীর নাসির উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হারুনুর রশিদ বহাল তবিয়তে এলাকায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে থেকে আওয়ামী লীগকে সুসংঘটিত করার চেষ্টা করছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। অবৈধ টাকায় গড়ে তোলা ব্যবসাসহ সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টায় আছেন, এ কাজ সম্পন্ন হলেই দেশত্যাগ করবেন তিনি। হারুনুর রশিদের ঘনিষ্ঠ সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সম্প্রতি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ থাইল্যান্ডে যেতে পারায় আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশত্যাগ নিয়ে তৎপর হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে দেশে ঘাপটি মেরে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা অনেকেই বিদেশ যাওয়ার চেষ্টায় আছেন। হারুনুর রশিদ তাদেরই একজন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি ৩৯নং ওয়ার্ড এলাকার সচেতন কিছু মানুষ একজোট হয়ে হারুনুর রশিদের মত স্বৈরাচারের সহযোগীর দেশ থেকে পলায়ন ঠেকানোর উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা বলেছেন, হারুনুর রশিদ ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সশরীরে অস্ত্রসহ অংশ নেন এবং নিজ দলকে আর্থিক সহযোগীতা করেন আন্দোলন দমানোর জন্য। এরপরও জনতার জয় হলে তিনি আত্মরক্ষায় ভারতে পালিয়ে যান। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তিনি দেশে ফিরে অনেকটা ঘরবন্দী করেন নিজেকে। তখন তার বিরুদ্ধে সাধারণ একটি মামলা হলে গ্রেপ্তার হন, কিছু দিন পরেই জামিনে বের হন।
এরপর থেকে তিনি লুকিয়ে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গোপন বৈঠক করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে বেরাচ্ছেন।

অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগের আমলে টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করে ব্যাপক সম্পদ গড়েছেন হারুনুর রশিদ। সেই সম্পদ দিয়ে গড়ে তোলা ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টায় আছেন তিনি। ইতোমধ্যে তার ব্যবসা ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রির জন্য বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আওয়ামী লীগের দাপটে হারুনুর রশিদ এলাকার মানুষের ওপর ব্যাপক অন্যায়-অত্যাচার করেছেন। মানুষের সম্পদ জবর দখল করে লুটপাট চালিয়েছেন। যে কারণে তার মত অত্যাচারী, স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী ও ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে হারুনুর রশিদ এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন রকমের মন্তব্য করতে রাজি হন নাই।

আরো