এনবিআর এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়া ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল: কর্মকর্তা কর্মচারীরা

আন্দোলনের যাওয়া ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি আন্দোলন এখন কর্মকর্তাদের জন্য হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্ন একসময় যেসব দাবী দাওয়া নিয়ে এনবিআর এর কর্মকর্তাদের গড়ে ওঠা আন্দোলন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।যেমন এই আন্দোলনকে ঘিরে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয় ভীতি বদলি বহিষ্কার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানভীতি। অনেকে চাকরি বাঁচাতে প্রকাশ্যে বা নীরবে ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবছেন তাদের আন্দোলন পরিণত হয়েছে আতঙ্কে।সাম্প্রতি ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছেন দুদুক এর পাশাপাশি ছয় জন কর্মকর্তাকে বদলি এবং আরো পাঁচজনকে সাময়িক বহিষ্কার ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও চাকরির জীবনে অনিশ্চয়তা। কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন আন্দোলনে জড়ানো ছিল আমাদের বড় ভুল, এখন কেউ কেউ এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে কারো কারো নাম দুর্নীতির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে চলতি বছরের মে-জুন এনবিআরের যৌক্তিক সংস্কার এবং চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে সারাদেশ জুড়ে কমপ্লিট শাটডাউন ও মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি পালন করেন। পরে আন্দোলনকারীরা কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে গত ২৯শে জুনের পর থেকে (দুদক) এনবিআরের ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে যাদের অধিকাংশই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী।দুদক জানিয়েছেন এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর ও শুল্ক আদায় ঘুষ গ্রহণ কর ফাঁকির সুযোগ করে দেয়া এবং দুর্নীতি মূলক মামলায় হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চাইবে।একজন মহাপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন আমি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম না কিন্তু গ্রুপে আমার নাম ছিল তবে এখন বুঝতে পারছি পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আরেক কর্মকর্তা বলেন বদলি আর (দুদকের) ভয়ের চেয়ে বহিষ্কার ভালো অন্তত আপিলে চাকরি ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু দুদুকের তদন্তে নাম আসলে সামাজিকভাবে মুখ দেখানো যায় না।তবে জানা গেল এ পর্যন্ত পাঁচজন সিনিয়র কর্মকর্তা বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানো হয়েছে এদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার জাকির হোসেন,মুলক নীতির সদস্য ড আব্দুর রউফ, শুল্কনীতির সদস্য হোসেন আহমেদ, কর সদস্য আলমগীর হোসেন, ও বরিশালের কমিশনার সাব্বির আহমেদ, জানা গেল জনস্বার্থে তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি আদেশে বলা হয়।২৮ ও ২৯ জুন যেসব কর্মকর্তা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যেও তালিকা তৈরি হচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান চলছে ১৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা পূর্ব কমিশনার কাজী মোঃ জিয়াউদ্দিন, বেনাপোল কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামান, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকী, কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক সিআইসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত কমিশনার ও সভাপতি এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ হাসান তারেক রিকাবদার, সহ-সভাপতি মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা, সিনিয়র সহকারি সভাপতি মির্জা আশিক রানা, সদস্য মোঃ তারেক হাসান,মোঃ মোরশেদ উদ্দিন খান, সাধন কুমার কুণ্ড প্রমুখ।

আরো