সাংবাদিককে পুলিশের সামনে ইট দিয়ে পিটিয়ে আহত, ন্যায়ের চরম অবক্ষয়ের নজির

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে ঘটেছে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা-পুলিশের চোখের সামনে, থানার পাশেই, এক সাংবাদিককে নির্মমভাবে ইট দিয়ে মেরে থেথলিয়ে ক‌রে দিয়েছে তার মুখ মন্ডল।এবং গায়ের উপরে লাফিয়ে নিত্য করে তারা। এ যেন পুরান ঢাকা মিটপোর্ডের সেই ব্যবসায়ীকে ইট দিয়ে মারার কথা মনে করিয়ে দেয়। আক্রান্ত আনোয়ার হোসেন, যিনি দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, এখন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সদর মেট্রো থানার পূর্ব পাশে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একদল দুর্বৃত্ত আনোয়ার হোসেনকে টার্গেট করে প্রকাশ্যে ইট দিয়ে মাথা ও শরীর লক্ষ্য করে আঘাত করে। আশেপাশে থাকা মানুষ আতঙ্কে সরে দাঁড়ায়, কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো-ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। তারা কেবল দাঁড়িয়ে দেখেছে।

নীরব পুলিশ, আতঙ্কিত জনতা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীর এমন নিষ্ক্রিয়তা হতবাক করার মতো। একজন সাংবাদিক যখন হামলার শিকার হচ্ছেন, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

পেশাগত দায়িত্বে ঝুঁকি

আহত সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে অনেকেই মনে করছেন-এটি হয়তো তাঁর কোনো সংবেদনশীল প্রতিবেদন বা তথ্য প্রকাশের ফল হতে পারে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যদি চলতেই থাকে, তাহলে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক সমাজ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকে লিখেছেন, “আজ যদি সাংবাদিক আক্রান্ত হন, কাল সাধারণ মানুষও নিরাপদ থাকবে না।”

দাবি উঠছে চার দফার

ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা এবং নাগরিক সংগঠনগুলো নিম্নোক্ত দাবিগুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন-

১. অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২. ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. আহত সাংবাদিকের সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

আমার কথা

একজন সাংবাদিকের ওপর এমন প্রকাশ্য বর্বর হামলা শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা গণমাধ্যমকে আতঙ্কিত ও অপমানিত করে।সাংবাদিককে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দাবি আজ আবারও সামনে চলে এসেছে। একটি সভ্য রাষ্ট্রে কেউ মত প্রকাশের অপরাধে ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হতে পারে না।

আরো