যে কথা বলেছিল স্বৈরাচার হাসিনা রাজাকারের বাচ্চা, একই কথা বললেন ফজলুর রহমান রাজাকারের বাচ্চা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে টেলিভিশন টকশোতে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে, কখনো উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে, আবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও দলটির নেতাদের নিয়ে কিংবা ইসলামপন্থি রাজনীতিকদের নিয়ে বেফাঁস বক্তব্য দিয়েই চলেছেন। এসব বক্তব্য নিয়ে রজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

সম্প্রতি এক টকশোতে তিনি জুলাই যোদ্ধাদের ‘কালো শক্তি’ এবং ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করেন। তার এ বক্তব্যের পর থেকেই চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইছে। ফজলুর রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন ফজলুর রহমান আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে আসে। কিন্তু স্বৈরাচার ফ্যাসিজ হাসিনা যেভাবে বক্তব্য দিয়েছিল জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে একই কথা বলেছেন ফজলুর রহমান। স্বৈরাচার হাসিনার কথাই তিনি মুখে উচ্চারণ করেছেন, তিনি আরো বলেন তার এই পাগলামি কারণে দেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করার পায়তারা করছেন আওয়ামীলীগ যেমন চান না দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক ফজলুর রহমান তিনিও চান না দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক।

আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে আসা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন। ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেই দায়ী করেছেন। তার ভাষায়-এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মূল পরিকল্পনাকারী ‘কালো শক্তি’ জামায়াত।

একটি টকশোতে অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলন পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। যারা ৫ আগস্টের ঘটনার জন্য দায়ী, তারা কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়, তারা কেবল অভিনেতা। মানুষ এখন বুঝে ফেলেছে, এরা রাজাকারের বংশধর। তারা অর্থবিত্ত দিয়ে তরুণ সমাজকে প্রলুব্ধ করছে।

এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘বেজন্মা’ বলে গালি দেন তিনি। ছাত্রনেতাদের অভিযোগ-দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও ফজলুর রহমান এখন বিএনপির হয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। অথচ তার ভাষা ও বক্তব্য আওয়ামী লীগের বয়ানকেই বাস্তবায়ন করছে। বিরূপ বক্তব্যর পর গতকাল রোববার বিএনপি থেকে শোকজ করা হয় ফজলুর রহমানকে। শোকজের চিঠিতে বলা হয়, ‘জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং আত্মদানকারী শহীদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের
চেতনার পরিপন্থী। মহিমান্বিত এ গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করে। এমনকি আপনি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দিয়ে কথা বলছেন।’

চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতার প্রায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরনের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত অপমান ও অমর্যাদা করছেন। এ ধরনের উদ্ভট ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্যের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না-তার যথাযথ কারণ দেখিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

আরো