এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ

পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারটি বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এবার চাহিদা হবে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে গত বছর (২০২৫) পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। গত বছর কোরবানি পরে ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত ছিল।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা, ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোরবানির পশুর অবাধ চলাচল/পরিবহন নিশ্চিতকল্পে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়। ওই সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, আশা করি চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি, কোন শর্টেজ হবে না।

এ সময় জানানো হয়, এবার কোরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।

দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু থাকায় এ বছর কোরবানি ঈদের জন্য পশু আমদানি করা হবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, অবৈধ পথে কোনোভাবেই গবাদিপশু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে কাজ করবে।

এদিকে, কোরবানির প্রাণী সরবরাহের জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনে করে প্রাণী সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, রাস্তা ও পশুর হাটে কঠোরভাবে চাঁদাবাজি রোধ করতে কাজ করবে সরকার।

অন্যদিকে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৭টি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল দল ও ২টি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়া, সারাদেশে ৩ হাজার ৬৭৮টি হাট বসবে। যেখানে ভেটেরিনারি সেবায় টিম থাকবে। অনেক বড় বাজারে একাধিক টিম থাকবে।

কোরবানির ঈদে বাজার যেন কেউ অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য মন্ত্রী বলেন, অতীতের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোর হবে। চাঁদাবাজির কারণে পশুর দাম যেন না বাড়ে, সে জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইনে পশু বিক্রি হবে এবারও। এর জন্য কোন খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না। এছাড়া যেন নষ্ট না হয় এজন্য কোরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরো