যে রাষ্ট্র ধর্ষন-হত্যা-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেনা, সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়: এমপি রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ ২০২১ সালে সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোন সিনেমা হল নেই, কোন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছেনা। এই কালো নকশা কারা করছে।

যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রর্দশনী বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি সোমবার বিকেলে বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে সর্বস্তরের জনগণ এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি আরো বলেন, যে রাষ্ট্র ছয় বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারে না, যে রাষ্ট্র দুর্নীতি, অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক লুট বন্ধ করতে ব্যর্থ, সেই রাষ্ট্র কেন একটি সিনেমা বন্ধ করার ক্ষেত্রে এতটা সক্রিয়।

ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা বলেন বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে দেখার মতো একটি সিনেমা। তাহলে সেটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আজ মানুষ খুঁজছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং জনতার যুদ্ধ ছিলো তেমনি, ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানেও দেশর সকল শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। তাই কেউ যদি দেশের গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায়, তার পরিণতি অতীতে যেমন ভাল হয়নি, ভবিষ্যতেও তার পরিণতি ভাল হবে না। তিনি আরো বলেন, যে রাষ্ট্র ধর্ষন হত্যা দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেনা, সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়। তিনি বলেন, গত দুই বছরে মাজার ভাঙ্গা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে লাশ পড়ানো হয়েছে, ডানপন্থি উগ্রবাদের উত্থান দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশের মাটি এমন ছিলোনা। এই দেশে যেমন সুমধুর আযানের ধ্বনি শুনেছি, তেমনি বাউল গানও হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন জাগে কারা বাংলাদেশকে এখন মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়। তিনি বলেন আমরা এমন রাষ্ট্র আশা করিনা, যে রাষ্ট্র মানুষকে পেছনে নিয়ে যাবে। এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘেœ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পালনে সার্বিক ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানান।

তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্রের চর্চা সবসময়ই বাংলাদেশের সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু এখন কিছু গোষ্ঠী বাংলাদেশকে সংকীর্ণ চিন্তার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনি সংকেত।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উদীচী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ,সামাজিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির প্রমুখ।

আরো