এবার জুলাই গণহত্যায় গ্রেপ্তার মোজাফফর, জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর হোসেনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুইদিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিচারপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বেঞ্চ এ আদেশ দেন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে বেলা ১১টায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তাকেও আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর জোহা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরকে হাজিরের জন্য আবেদন করা হয়। তার সঙ্গে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা তদন্তে আরেক গ্রেপ্তার আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মোজাফফর হোসেনের যোগাযোগের তথ্য পেয়েছি। এর ভিত্তিতেই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে জুলাই গণহত্যায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওই বছরে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালের জুনে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়েছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে। ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন তিনি। তার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কেনেন। এর পরদিনই জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।
এদিকে মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মেজর (অব.) মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।