আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নথি চেয়ে দুদকের চিঠি
অর্থপাচারের অভিযোগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তে সাত ধরনের নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১০ অগাস্ট সকাল ১০টার মধ্যে এসব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।
নথিপত্র তলব করে বুধবার দেওয়া দুদকের চিঠিতে বলা হয়, বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান ও মালিকানা গোপন করতে বিনিয়োগের ছদ্মাবরণে সিঙ্গাপুরে এম/এস এরিয়াল মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেড নামের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও ভোগদখলের মাধ্যমে বদিউর রহমান মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।
দুদকের চিঠিতে সূত্র হিসেবে ২০১৮ সালের ২৬ জুন করা মতিঝিল থানার একটি মামলা এবং ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দেওয়া একটি চিঠির কথা বলা আছে।
তদন্তের জন্য বদিউর রহমানের ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর নথি এবং একই সময়ে সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা হিসেবে সেখানে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত এম/এস এরিয়াল মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেডের সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন, বিজনেস প্রোফাইল, শেয়ার সনদ, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিচালক ও সদস্যদের নিবন্ধনের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে দুদক।
কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা পাঁচ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধের টিটি বা সুইফট কপি এবং মূলধন জমার ব্যাংক হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ২০০৩ থেকে ২০০৬ অর্থবছর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের ইনল্যান্ড রেভিনিউ অথরিটিতে জমা দেওয়া কোম্পানির আয়কর বিবরণী, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং বদিউর রহমানের ধারণ করা শেয়ারের বিপরীতে ইস্যু করা শেয়ার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে বলেছে দুদক।
প্রায় দুই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের বসানো স্বতন্ত্র পরিচালকদের নেতৃত্বে চলছিল আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। গত ১৫ জুলাই ব্যাংকটির ১৪ জন শেয়ারহোল্ডারকে পরিচালক করার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর মধ্যে ছয়জন কেডিএসের গ্রুপের। অন্যদের বেশির ভাগই ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের দুই দিন পর নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। তাতে চেয়ারম্যান পদে ফেরেন বদিউর রহমান। তিনি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন।