গলদ নিয়েই আইপিওর অনুমোদন: রয়েল ফুটওয়্যারের
শেয়ারবাজার তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে রয়েল ফুটওয়্যার পিএলসি সম্প্রতি যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত প্রাথমিক শেয়ার প্রস্তাবের (IQIO) খসড়া প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে মোট ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
এই মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সাধারণ দেখালে, খসড়া প্রসপেক্টাসটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু পদ্ধতিগত অসংগতি এবং শুভঙ্করের ফাঁকি বেরিয়ে আসে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় পাওয়া গেছে যে কোম্পানির তিন পরিচালক একটি সিস্টার কনসার্নের প্রায় ৭০% মালিক এবং দুই প্রতিষ্ঠান একই ঠিকানা, একই কোম্পানি সেক্রেটারি ও একই সিএফও অথচ প্রসপেক্টাসে তাদের মধ্যে কোনো লেনদেন নেই বলেছে।
অনুসন্ধানীতে উঠে আসে রয়েল ফুটওয়্যারের কারসাজির সেই অন্দরমহল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
DSE-এর নেতিবাচক মতামতের অপ্রকাশিত ইতিহাস মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী, রয়েল ফুটওয়্যার ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে একই পরিমাণ অর্থ (১২ কোটি টাকা) তোলার জন্য প্রথমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)-এর এসএমই প্ল্যাটফর্মে আবেদন করেছিল।
পরবর্তীতে কোম্পানিটি সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। প্রকাশ্যে কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক সংকট দেখানো হলেও, স্টক এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্ট সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, DSE-র পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির ব্যাপারে নেতিবাচক মতামত দিয়েছিল।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর কোম্পানিটি ২০২৬ সালে হালনাগাদ আর্থিক তথ্যসহ পুনরায় আবেদন কর। এবং এবার লক্ষ্য ঢাকার বদলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)। বর্তমানে আমরা যে প্রসপেক্টাসটি বিশ্লেষণ করছি, সেটিই এই পুনরায় জমা দেওয়া আবেদন, কারণ এতে উল্লেখিত আর্থিক পরিসংখ্যান (যেমন FY25-এর রাজস্ব ও EPS) সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
মূল উদ্বেগ: DSE ও CSE বাংলাদেশে দুটি স্বতন্ত্র এক্সচেঞ্জ, প্রতিটির নিজস্ব বোর্ড অনুমোদন প্রক্রিয়া আছে বলে এক এক্সচেঞ্জে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অন্যটিতে আবেদন করা স্বাভাবিক। তবে সমস্যা হলো, CSE-র এই প্রসপেক্টাসে কোথাও উল্লেখ নেই যে একই কোম্পানি একই প্রস্তাব নিয়ে আগে DSE-তে গিয়েছিল এবং সেখানে নেতিবাচক মতামতের মুখে পড়েছিল। এটি এমন একটি তথ্য যা একজন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি মূল্যায়নে সরাসরি প্রভাব ফেলার কথা, অথচ তা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে।
আইন-QIO Rules, 2018 — Annexure-E, Instructions (4) ও (5)
(4) “…The prospectus/information memorandum should not make any statement that cannot be substantiated or may be misleading.
(5) “…the prospectus shall contain all material information necessary to enable investors to make an informed assessment of the business engaged in or to be engaged in by the issuer…
অর্থাৎ QIO Rules, 2018 (Annexure-E)-এর সাধারণ disclosure নীতি অনুযায়ী প্রসপেক্টাসে এমন সব তথ্য থাকতে হবে যা বিনিয়োগকারীর সিদ্ধান্তে materially প্রভাব ফেলতে পারে। DSE-এর নেতিবাচক মতামতের ইতিহাস গোপন রাখাটা এই নীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়।
১. সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন: “শূন্য লেনদেন”-এর ঘোষণা বনাম নিরীক্ষিত হিসাবের স্বীকারোক্তি
প্রসপেক্টাসের মূল অংশে, “Certain Relationships and Related Transactions” সেকশনে কোম্পানি স্পষ্টভাবে ব্ল্যাংকেট ঘোষণা দিয়েছে যে, গত দুই বছরে পরিচালক, কর্মকর্তা, ৫%-এর বেশি শেয়ারধারী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো লেনদেন হয়নি, এবং পরিচালকদের কাছ থেকে কোনো ঋণও নেওয়া-দেওয়া হয়নি।
এই ঘোষণাটি সরাসরি মিথ্যা প্রমাণিত হয় নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর Note 30.00 “Related Party Transaction”-এ।
নোটে কোম্পানি নিজেই স্বীকার করেছে যে প্রকৃতপক্ষে নিম্নলিখিত লেনদেনগুলো হয়েছে:
১. আল-মাদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. — ফ্যাক্টরি জমি ভাড়া — সম্পর্ক: Common Directors — পরিমাণ (৬ মাসে): ১,২০,০০০ টাকা