আয়কর মওকুফসহ ১১ দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য আয়কর মওকুফ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন এবং সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে থেকে রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ মিছিল করে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ‘মাতৃভূমির সুরক্ষা’ স্লোগানে আয়োজিত এ সমাবেশ শুরু হয় সকাল সাড়ে ১২ টায় মিছিল টি আরম্ভ হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জনগোষ্ঠীর সমান সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মিছিল শেষে সভাপতির বক্তব্যে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাস, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় বাঙালিদের আয়কর মওকুফের আওতায় আনা উচিত।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
২. পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আয়কর মওকুফের আওতায় আনা।
৪. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচিত করার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাঙালিদের ওপর হামলার প্রতিবাদ।
৬. গণমাধ্যম ও সরকারি দপ্তরে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ।
৭. ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতির ভিত্তিতে পাহাড় ও সমতলে সমান সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
৮. পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি মাউন্টেন ডিভিশন ও একটি বিমানবন্দর স্থাপন।
৯. সিমান্ত সড়কের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করা ও পার্বত্য সিমান্তে কাটাতারের বেড়া নির্ন্মান।
১০. পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগসমূহের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) চাকরিতে শতভাগ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা ও উচ্চশিক্ষায় পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালু।
১১. অনতিবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন।
এডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেন, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী আয়কর আইন, ২০২৩-এ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কর অব্যাহতির বিধান বহাল করে। তবে সাম্প্রতিক অর্থবিলে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে তা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের পর পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পার্বত্য অঞ্চলের ৮০% বাঙালি পরিবার এখনও দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজির বড় অংশ স্থানীয় বাঙালিদের কাছ থেকেই আদায় করা হয়। ফলে কর প্রদান করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এসয় বক্তাগণ বলে হয়, দীর্ঘদিন ধরে করমুক্ত সুবিধা বহাল থাকায় একটি শ্রেণির অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটলেও স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের সমঅধিকারের নীতির ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাঙালিদেরও আয়কর মওকুফের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিক্ষোভ মিছিল টি শান্তিপূর্ণভাবে শাহবাগ, টিএসি ও রাজু ভাস্কর্য এলাকা প্রদক্ষিণ করে।