বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহের কথা জানান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে টয়োটা পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে টয়োটা বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে Hybrid Electric Vehicle (HEV) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।
টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটার সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।অ্যালার্ম বাজবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার মিট অন ওয়েদার, ক্লাইমেট ইনফরমেশন অ্যান্ড ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস (আইডিডিআরআর) ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন।
নরওয়েজিয়ান এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশনের (নোরাড) সহায়তায় ‘ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের যৌথ উদ্যোগে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই আইওএস সংস্করণও চালু হবে।
বিএমডি জানিয়েছে, অ্যাপের মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা সরাসরি মুঠোফোনে পাওয়া যাবে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার বিস্তারিত পূর্বাভাসের পাশাপাশি ১০ দিনের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতিও জানা যাবে। এ ছাড়া বাতাসের গতি, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, ইউভি সূচক ও দৃষ্টিসীমাসহ বিভিন্ন আবহাওয়া তথ্য অ্যাপটিতে থাকবে। বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তাও দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আসাদুল হাবিব দুলু দেশবাসীকে অ্যাপটি ডাউনলোড ও ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সময়োপযোগী আবহাওয়া তথ্য ও আগাম সতর্কবার্তা মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে এবং দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএমডির পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. আজমল হোসাইন, রাইমসের কান্ট্রি প্রোগ্রাম লিড রায়হানুল হক খানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।
অনুষ্ঠানে ‘কোপ ডিজাস্টার চ্যাম্পিয়নস’ সিরিজের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়-বিষয়ক দুটি বইয়ের বাংলা সংস্করণের মোড়কও উন্মোচন করা হয়। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের (জিএফএফও) অর্থায়নে শিশুকেন্দ্রিক আগাম পদক্ষেপ প্রকল্পের আওতায় বই দুটি বাংলায় অনুবাদ ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটের উপযোগী করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে দুর্যোগঝুঁকি, প্রস্তুতি ও নিরাপদ থাকার বার্তা সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়াই বই দুটির লক্ষ্য।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছানো জরুরি। একই সঙ্গে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবার জন্য সতর্কবার্তা বোধগম্য হওয়া প্রয়োজন।
