যে সাওমে সারা বছর সাওম রাখার সওয়াব

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

‘আইয়ামে বীজে’র সাওম রাখার গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ বছরজুড়ে সহজে রোজার সওয়াব পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম এ সাওম । এ ছাড়াও বছর জুড়ে সাওমের সওয়াব পাওয়ার আরও আমল আছে। তবে তুলনামূলকভাবে সহজে ও সারা বছর সাওমের সওয়াব মেলে এ সাওমে। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত। কিন্তু তা কীভাবে?
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে আব্দুল্লাহ! তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা হয়ে যায়।’
প্রতি চন্দ্র মাসে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। দিনগুলো হলো আইয়ামুল বিজ তথা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এ রোজাগুলো ছাড়তেন না। তিনি সব সময় আইয়ামে বিজের রোজা রাখতেন। এমনকি সফরেও। তবে রোজাগুলো ফজিলতপূর্ণ হলেও তিনি উম্মতের জন্য এ রোজাকে বাধ্যতামূলক করেননি। হাদিসে পাকে এসেছে-
‘তুমি যদি (প্রতি) মাসে তিনটি সাওম রাখতে চাও, তাহলে তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরোতম দিনে সাওম রাখবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ)
‘আইয়ামে বীজে’র সাওমের পুরস্কার হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আন প্রতিদিন রোজা রাখতেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রতিদিন সাওম রাখতে নিষেধ করেন এবং উপদেশ দেন এভাবে-
‘হে আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সাওম রাখো এবং সারা রাত নামাজ আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন- এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) সাওম রাখো আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) সালাত আদায় করো আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক্ক রয়েছে, তোমার চোখের হক্ক রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক্ক আছে, তোমার মেহমানের হক্ক আছে। (বরং) তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের সাওমপালন হয়ে যায়।’ (বুখারি)
বছরজুড়ে সাওম পালন
‘আইয়ামে বীজে’র সাওম রাখার বিষয়ে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। এবং বলেছেন, ‘আইয়ামে বিজের রোজা রাখা সারা বছরই সাওম হক্ক রাখার সমতুল্য।’
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সাওম রাখবে-এটা তোমার জন্য ভালো। কেননা তোমার একটি সৎকাজ দশগুণ সমান; ফলে তুমি যেন পুরো বছরই সাওম রাখছো।’ (বুখারি)
হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি সাওম রাখল; সে যেন সারা বছরই সাওম রাখল।’ অতঃপর এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নাজিল করেন- ‘যে একটি নেকি নিয়ে আসে তার জন্য রয়েছে তার ১০গুণ।’ অতএব একদিন ১০ দিনের সমান।’ (তিরমিজি)
হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ‘আইয়ামে বীজে’র সাওমের ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারা বছর সাওম রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)
হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। এরপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে সাওম রাখলে আবার তাদের শরীরে পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। এই তিন দিনকে তাই ‘আইয়্যামে বীজ’ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি জমাদিউস সানি মাসের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী আইয়ামে বিজের রোজা রাখার নির্ধারিত দিন হলো- ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ মোতাবেক ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি ২০২২। যারা এ মাসের আইয়ামের সাওম রোজা রাখবেন; তাদেরকে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত (আজ) রাত সাহরি খেতে হবে।
সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত, আইয়ামে বিজের সাওম পালন, হাদিসের ওপর যথাযথ আমল ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল পালন করে বছরজুড়ে রোজার সওয়াব পাওয়া চেষ্টা করা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ তিনদিন ‘আইয়ামে বীজে’র সাওম রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো