স্বৈরাচারের দোসর, “বর্তমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ” এর বাগেরহাট ১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী

স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার পালানোর পরে,আওয়ামীলীগের দোসর শামীম পালিয়ে থাকেন বহুদিন।পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রকাশ্যে আসেন তিনি।শুরু হয় দৌড়ঝাপ বিভিন্ন দলে পথ পাওয়ার চেষ্টা ও করেন। বিএনপিতে পথ চেয়ে ব্যর্থ হলে,এবার জান জামাতে সেখানেও ব্যর্থ হয়। উপায়ান্তর না দেখে তিনি যোগ দেন ইসলামী আন্দোলনের সাথে,যেটা আমরা হাতপাখা নামে চিনি।বাগেরহাট ১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বলে ও পোস্টারও ছেপেছেন তিনি। পোস্টারে লেখাছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের ১ আসন যে আসনটি “চিতলমারী মোল্লারহাট ফকিরহাট নিয়ে” ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে বাগেরহাট ১ আসনের মাটি ও মানুষের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্লা মজিবুর রহমান শামীম।তবে তার এলাকার মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন মোল্লা মজিবুর রহমান শামীম আওয়ামীলীগের সময় ব্যাংকের টাকা চুরি করে নামে বেনামে প্রচুর সম্পদ করেছেন। একই সম্পদ একাধিকবার দেখিয়ে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা নিয়ে তিনি হয়েছেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,দানবীর,এবং রাজনৈতিক বিদ।একজন নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক বিদ্যের ধারা এলাকার মানুষের জন্য উন্নয়ন সম্ভব নয় রাজনীতিতে তাদের মত মানুষ আসলে এলাকার মানুষ কোন ভাবেই ভালো থাকার সম্ভাবনা থাকবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন এ ধরনের লোকজন ইসলামী আন্দোলনের মতো দলের সাথে তাদেরকে নেয়ার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি আমরা কিন্তু কি কারণে তাকে নেয়া হলো এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা।কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে নিউজ আসে।সেই নিউজটি নিচে আবারো হুবাহু তুলে ধরা হলো।৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে পালাতে চেয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক।বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে পলাতক ছিলেন।
সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে একই জমি একই ফ্লাটের জমি জামানত রেখে অভিনব কায়দায় ৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে ব্যাংকের দৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন মুজিবর। তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এতদিন। অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে তাকে আটক করে এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপের (এভসেক) সদস্যরা।
মুজিবর রহমান শামীম বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শাসকদলের আশ্রয়ে থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা চিতলমারী-বাগেরহাটসহ পাশের পিরোজপুর জেলাতে দাপিয়ে বেড়ালেও ব্যাংকের দৃষ্টিতে পলাতক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যাংকের টাকা মেরে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া শামীম প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ২০১১ সালে চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
চিতলমারীর উমাজুড়ি গ্রামের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে শামীম আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ। উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে তার শূন্য আসনে ২০১৪ সালের অক্টোবরে স্ত্রী বিউটি আক্তারকে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে আনেন।
ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে দু’হাত ভরে টাকা উড়িয়ে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, স্ত্রীকে ইউপি চেয়ারম্যান বানিয়ে থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাংকের খাতায় পলাতক মুজিবর রহমান শামীম চিতলমারীর পাশের জেলা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ইটের ভাটা। এ কাজে তিনি কৃষকসহ সরকারের খাস জমি দখল করেছেন। নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিপাগলা গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমির ওপরে গড়ে তুলেছেন রিসোর্ট, মাছ ও গরুর খামার। রিসোর্টে আলিশান তিনটি ভবন গড়ে তুলেছেন তিনি।
হরিপাগলা গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, শামীমের রিসোর্টে প্রভাবশালী নেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় নিয়মিত আসর বসাতেন। সেখানে চলে নানা অপকর্ম।
ব্যাংকের টাকা মেরে নিজ এলাকা চিতলমারী ছেড়ে পিরোজপুরে সেজেছেন দানবীর। বাগেরহাট জেলা মানবাধিকার কাউন্সিলের সভাপতি, বাগেরহাটের সাংস্কৃতিক সংগঠন দলছুটের সভাপতির পদও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অর্থের জোরে চিতলমারী থেকে প্রকাশিত চিতলমারীর অন্তরালে ও পিরোজপুর থেকে প্রকাশিত তথ্য দর্পন নামের দুটি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিও হয়েছেন। চিতলমারী ও নাজিরপুর-পিরোজপুরের এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিদের সঙ্গে শামীমের সখ্যতা রয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এতদিন নিজের অপকর্ম চাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি তা ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশ হয় তার নানা অপকর্ম নিয়ে সংবাদ। দানবীর সাজা শামীমের আসল রূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ায় চিতলমারীসহ বাগেরহাট ও পিরোজপুরে তেলপাড় সৃষ্টি হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম সম্প্রতি তারই উপজেলার ইউএনও মো. আবু সাঈদের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে আলোচনায় আসেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তপন কুমারের নির্দেশে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জহিরুল আলম ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে গা ঢাকা দেন শামীম।

আরো