এনবিআরের উচ্চপদের দুর্নীতিগ্রস্ত তিন কর্মকর্তা, মতিউর রহমান, শহিদুল ইসলাম, জিয়াউদ্দিন মাহমুদ

জিয়াউদ্দিনের কানাডা অস্ট্রেলিয়া বাড়ি দুদকে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রথমে ছাগল কাণ্ডে মতিউর, পরে মোঃ শহিদুল ইসলাম, আর এখন জিয়াউদ্দিন, এরা সবাই হাজার কোটি টাকার মালিক। এনবিআরের সাবেক সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলামের দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে আকাশবাণীবিডি২৪ এর হাতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে গিয়ে জানা গেল এরকমের ১০০ জন এনবিআরের সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তাদের প্লট রয়েছে, নামে বেনামে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য (কর) জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকায় সরকারি প্লট, বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে বিপুল স্বর্ণ এবং অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় একাধিক বাড়িসহ দেশে-বিদেশে তাঁর বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এসব সম্পদ ক্ষমতার অপব্যবহার, কর সুবিধা পাইয়ে দেওয়া ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামে সরকারি প্লট পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে উত্তরা ও পূর্বাচলে সরকারি প্লট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্লট পরবর্তী সময়ে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে রাজউকের এমআইএসে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর প্লটের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর বনানীতে কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ আরও একাধিক সম্পদ রয়েছে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় তাঁর একাধিক বাড়ি থাকার তথ্যও উঠে এসেছে। তাঁর দুই ছেলে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় বসবাস করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জিয়াউদ্দিন মাহমুদের স্ত্রীর নামে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্বর্ণের একটি অংশ তাঁতিবাজার থেকে গোল্ডবারে রূপান্তর করা হয়েছে।
জিয়াউদ্দিন মাহমুদ এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন) থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কর রেয়াত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর বিনিময়ে বিপুল অর্থ নেওয়া এবং সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগও প্রতিবেদনে করা হয়েছে।

এ ছাড়া কর প্রশাসনে অর্থের বিনিময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তার সাড়া পাওয়া যায়নি, বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
সাবেক এই এনবিআর সদস্যের সম্পদ, সম্পদের উৎস এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো এখন দুর্নীতি তদন্তের আওতায় কীভাবে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

আরো