ওয়েবসাইটে ৯,৬৬৫ অভিযোগ, দাবিকৃত ঘুষ ৩৩২ কোটি টাকা
যে টেবিলে থেকে সরকারি পেনশনের টাকা দেয়া হয়, সেই টেবিলেরই কর্মকর্তা কর্মচারীরা পেনশনে গেলে তাদেরকেও ঘুষ দিয়ে পেনশনের টাকা টাকা ছাড়াতে হয়। বাংলাদেশে হাজার হাজার শিক্ষক অবসরে গিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা পেনশনের টাকা পাচ্ছেন না। আর পেনশনের টাকা নিতে হলে গুনতে হয় মোটা অংকের ঘোষ না হলে মেলে না তাদের পেনশনের টাকা।
শাহেদ শরীফ আহমেদ এর
মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে ৩৮ হাজার টাকা কেন ঘুষ দিতে হইল‚ এই ক্ষোভ থেকেই ঘুষ উন্মোচন সাইট তৈরি শাহেদের। মাত্র ৯ দিনে সেই সাইটে ৩২২ কোটি টাকার ঘুষের চিত্রপট! ভাইরে ভাই‚ মেরুদণ্ড শক্ত কিভাবে রাখতে হয়‚ তা তার কাছ আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ!
প্রয়াত শিক্ষিকা মা আমিনা খাতুনের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে একের পর এক টেবিলে ঘুষের দাবি। এমনকি নিজের পাসপোর্ট বানাতে গিয়েও একই হয়রানি। একজন ১৭ বছরের কিশোরের জন্য এই তিক্ততা হয়তো স্বাভাবিক জীবনে মেনে নেওয়ার কারণ হতে পারতো। কিন্তু শাহেদ শরীফ আহমেদ, নীরব থাকেনি ক্ষোভকে বানিয়েছেন এক শক্তিশালী প্রতিরোধ। ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকা কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলের এই শিক্ষার্থী, প্রশাসনের ফাঁকে ফাঁকে বাসা বাঁধা ঘুষ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছুড়ে দিল এক ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ। খুলে বসলো এক অভিনব প্ল্যাটফর্ম, শুরু হলো অভিযোগের পাহাড় মাত্র ৯ দিনের মাথায় সেই ওয়েবসাইটে জমা পড়ে ৯‚৬৬৫ টি অভিযোগ। সেখানে রয়েছে ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকার দাবিকৃত ঘুষের হিসাবও।
শাহেদ আহমেদের প্রয়াত মায়ের কল্যাণ ও সহায়তার ১০ লাখ টাকা পেতে এখনো শিক্ষা কার্যালয়ের টেবিলে ঝুলে আছে লাখ টাকার ঘুষ দাবি। শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলামও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এক টাকাও ঘুষ দেব না, ছেলের লড়াইয়ে আমি পাশে আছি।
কিছু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের রক্তেমাংশে মিশে যাওয়া ঘুষ, এই ওয়েবসাইটটি চোখের ঘুম নষ্ট করে দিয়েছে। এমনকি লক্ষ লক্ষ ভুক্তভোগী মানুষের আশার আলো হয়ে উঠেছে।
