আসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ‘ড্যানিয়েল’!
স্টাফ রিপোর্টার
আকাশবাণীবিডি২৪-এর অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, আসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি, যিনি ‘ড্যানিয়েল’ নামে পরিচিত এবং যার প্রকৃত নাম গফুর বলে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে আসলাম চৌধুরীর বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি না হলেও আসলাম চৌধুরী তাকে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, আসলাম চৌধুরীর মামলা পরিচালনা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন বিষয় ড্যানিয়েল দেখভাল করতেন। আসলাম চৌধুরীর এক বিশ্বস্ত রাজনৈতিক কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, নেতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে অনেককেই ড্যানিয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হতো। এ কারণে দলের অনেক নেতা-কর্মী আসলাম চৌধুরীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলেও ওই কর্মী দাবি করেন।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ড্যানিয়েল বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি কারাভোগও করেছেন। এছাড়া, গত বছরের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে একজনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ওই ব্যক্তির ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। পরে ভুক্তভোগী সবুজবাগ থানায় অভিযোগ করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ব্যবহৃত নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি যে বাংলালিংক নম্বর ব্যবহার করছেন, সেটি তার নিজের নামে নিবন্ধিত নয়; বরং মিরপুরের এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিমটি নিবন্ধন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ড্যানিয়েল বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে উঠে প্রচার করেন যে আসলাম চৌধুরী তাকে ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন। তবে কয়েক মাস পর ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ না করে সেখানে অবস্থান করার চেষ্টা করলে ফ্ল্যাটের মালিক থানায় অভিযোগ করেন। পরে থানায় মুচলেকা দিয়ে তিনি ফ্ল্যাটটি ছেড়ে দেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের রায়
ঋণখেলাপির কারণে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না এবং তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন, গত ১৮ জানুয়ারি, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
পরে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক রিট করলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীও হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর আসলাম চৌধুরী স্থানীয় একটি পত্রিকাকে বলেন, “আমরা রিভিউ আবেদন করব। জনগণের রায় আবার ফিরে আসবে।”