সাদাকাহ, ফযীলত ও প্রকারভেদ

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

সাদাকাহ, ফযীলত ও
প্রকারভেদ
সাদাকাহ (صدقة) আরবি শব্দ অর্থ “দানশীলতা”, ইসলামি পরিভাষায় স্বেচ্ছাদানকে বোঝানো হয়। ইহা একটি আর্থিক বা সম্পদভিত্তিক ইবাদত (ইবাদতে মালিয়া)।ইবাদতের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী সাদাকা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:এটি মূলত ধন-সম্পদ বা অর্থ খরচের মাধ্যমে আদায় করতে হয়। যাকাতের মতো এটি বাধ্যতামূলক বা ফরজ নয়, বরং একটি স্বেচ্ছামূলক আর্থিক ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা খেজুরের একাংশ দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো” [যেহেতু সামান্য দানও রক্ষা করতে পারে]।
*সদকার ফজিলত ও গুরুত্ব*
দান-সাদাকার ফজিলত বর্ণনায় অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাদা আলাদাভাবে এমন ৩ ব্যক্তির বর্ণনা দিয়েছেন যাদেরকে আল্লাহ পছন্দ করে; আর ৩ শ্রেণীর ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। হজরত আবু জর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘আল্লাহ তাআলা ৩ ব্যক্তিকে পছন্দ করেন আর ৩ ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। তারা হলো-
যাদেরকে পছন্দ করেন-
(১) একজন সাহায্য প্রার্থী আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু লোকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, যাদের সঙ্গে তার আত্মীয়তার বন্ধন নেই। মজলিশের কেউ তাকে সাহায্য করে না। এমন অবস্থায় এক ব্যক্তি মজলিশ থেকে ওঠে গিয়ে এমন গোপনীয়তার সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা জানেন না।
(২) মুসলমানদের একটি দল শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। রাতের শেষ প্রহরে মানুষ যখন ঘুমে মগ্ন; সে সময় যে ব্যক্তি জেগে থেকে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে ও কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকে।
(৩) সে ব্যক্তি, যে জেহাদে অংশ গ্রহণ করে, জিহাদে পরাজিত হয়ে তার সঙ্গীরা পলায়ন করলেও সে শত্রুর মোকাবেলায় শাহাদাত বরণ করার আগ পর্যন্ত কিংবা বিজয় লাভ করা পর্যন্ত জিহাদে রত থাকে।
যে ৩ ব্যক্তিকে আল্লাহর অপছন্দ করেন তারা হলেন- বৃদ্ধ ব্যভিচারী;-অহংকারি ভিক্ষুক এবং- অত্যাচারী সম্পদশালী ব্যক্তি।
*সাদাকার বিশেষ গুরুত্ব* :
১) সাদাকায় সম্পদ কমে না* রাসুল (সা:) বলেছেন- “সাদকা করলে মানুষের সম্পদ কমে না” (তিরমিজি)।
২) কিয়ামতের ছায়া*: মুমিনের দান কিয়ামতের দিন তার জন্য ছায়া হিসেবে কাজ করবে (সহিহ ইবনে খুজাইমা)।
৩) বিপদ- আপদ থেকে বেঁচে থাকা* : রাসুল (সাঃ) বলেছেন-“দ্রুত সাদাকা প্রদান করো, কারণ বিপদ-আপদ সাদাকাকে অতিক্রম করতে পারে না”।
৪) সাদাকায়ে জারিয়া*: মৃত্যুর পর মানুষের আমল বন্ধ হয়ে গেলেও চলমান সাদাকার সওয়াব জারি থাকে (সহিহ মুসলিম)।
*সাদাকার প্রকারভেদ*
১) ক্ষুদ্র দানও মূল্যবান: হালাল উপার্জন থেকে সামান্য একটি খেজুর দান করলেও আল্লাহ তা কবুল করেন এবং পাহাড়সম সওয়াবে পরিণত করেন।
২) সদাচরণ ও হাসিও সাদাকা*: মুসলিম ভাইয়ের সামনে হাসিমুখে কথা বলা বা মৃদু হাসাও সাদাকা হিসেবে গণ্য হয়।
৩) ভালো কাজ*: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো বা কাউকে সাহায্য করাও সাদাকা।

আমাদের উচিত চরম অর্থাভাবেও আল্লাহর রাস্তায় দান করা। দ্বীন ও ইসলামের পথে অকাতরে দান করা। যে কারণে ইসলামের প্রাথমিক যুগে দান-সাদকার প্রতিযোগিতা করেছিলেন হজরত আবু বকর, ওমর, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমসহ অগণিত সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম উম্মাহর শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা রয়েছে।

আরো