গাড়িচালক কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করবেন গাড়িচালক।
আদালত এমন একটি জায়গা, যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় যায়। আর সেই আদালতের একজন বিচারকের খাসকামরায় যদি একজন সরকারি গাড়িচালক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠে তাহলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বাচ্চু দাবি করেন রোববার সকালে লগবইয়ের সময় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি এবং কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরে চোখ ফুলে গেলে তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং এক চোখে ব্যান্ডেজ করা হয়।
তবে বিচারক সোহেল রানা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি গাড়ির লগবই ও গাড়ি পরিষ্কার করার মতো পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে চালককে প্রশ্ন করছিলেন। বাচ্চুর আচরণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন, কিন্তু চোখে কোনো ঘুষি মারেননি। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে বাচ্চু চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বিষয়টিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করছেন।
ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গাড়ি পরিষ্কার না করার বিষয়ে জানতে বাচ্চুকে খাসকামরায় ডাকা হয়েছিল এবং পরে বিচারক তাকে ধমক দিয়ে বের করে দেন। তথ্যসূত্র
অন্যদিকে বাচ্চু আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিচারকের গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম এবং সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দের অপব্যবহারের বিষয় তিনি জানেন এবং এসব কারণে বিচারক তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত, প্রমাণিত সত্য হিসেবে নয়।
এখন মূল প্রশ্ন হলো খাসকামরার ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল?
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। বাচ্চুর চিকিৎসার কাগজপত্র, চোখের আঘাতের মেডিকেল রিপোর্ট, ঘটনার আগে ও পরের সাক্ষীদের বক্তব্য, আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট লগবই যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
কারণ একজন বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যেমন হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি তদন্তের আগেই একজন বিচারককে দোষী সাব্যস্ত করাও ন্যায়সংগত নয়।
বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার সবচেয়ে ভালো পথ হলো সত্য উদঘাটন করা। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হওয়া দরকার।
ন্যায়বিচারের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।
