স্ট্রোক ও স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে
আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন
এখন কম বয়সে ঘন ঘন স্ট্রোক ও স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না, কোন কোন ক্ষেত্রে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।
উদাহরণ: সাবেক সহপাঠীদের একটি মিলন মেলা হচ্ছিল। একজন নারী সহপাঠী সেদিন বারবিকিউ অনুষ্ঠানে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান। বন্ধুরা তাঁকে ডাক্তার দেখাতে অনুরোধ করলে তিনি বলেন, “আমি ঠিক আছি”। তিনি ভেবেছিলেন নতুন স্যান্ডেলের জন্য পা পিছলে পড়ে গেছেন। এরপর তাকেসহ সবাই খাওয়া-দাওয়া করে হাসিখুশি সময় কাটায়।কিন্তু পরে তার স্বামী আমাদের ফোন করে জানান যে অনুষ্ঠানের পর তাকে হাসপাতালে নিতে হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কারণ অনুষ্ঠান পা পিছলে যাওয়ার সময়ই তার স্ট্রোক হয়েছিল। তিন ঘন্টার অধিক বিলম্ব হওয়ায় ডাক্তারদের কিছু করার ছিল না।
উপরের উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে আমরা যদি সময়মত স্ট্রোকের উপসর্গ চিনতে পারতাম বা চেক করতাম, তাহলে হয়তো আমাদের সহপাঠীর জীবন রক্ষা করা যেতো (হায়াতের মালিক আল্লাহ)।
স্ট্রোকের আগে কিছু সতর্ক সংকেত থাকে এবং সময় মতো চিকিৎসা পেলে জীবন রক্ষা করা যায়। একজন নিউরোসার্জেন জানিয়েছেন, যদি তারা স্ট্রোক রোগীর কাছে তিন ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
কিভাবে স্ট্রোক চেনা যায়? এজন্য তিনটি সহজ অক্ষর মনে রাখতে হবে- S, T, এবং R.
এস (S: Smile): রোগীকে হাসতে বলুন, যদি মুখের একটি দিক বাঁকা হয়ে পড়ে যায়, বুঝতে হবে স্ট্রোকের সমস্যা হতে পারে।
টি (T: Talk): রোগীকে একটি সাধারণ বাক্য বলতে বলুন, যেমনঃ “আমি ভালো আছি”। বাক্যটি
সঠিকভাবে বলতে না পারলে, সেটিও স্ট্রোকের একটি লক্ষণ হতে পারে।
আর (R: Raise): রোগীকে দু’হাত তুলতে বলুন, যদি এক হাত পড়ে যায় বা তুলতে না পারে, তাহলে সেটিও স্ট্রোকের সংকেত হতে পারে।
এছাড়া আরো একটি উপসর্গ ডাক্তাররা দেখেন: রোগীকে জিহ্বা বের করতে বলুন। যদি জিহ্বা একদিকে বেঁকে যায়, সেটিও স্ট্রোকের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।
উপরের চারটি উপসর্গের মধ্যে একটি পেলেই দেরি না করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স বা কাছের হাসপাতালে ফোন করে ডাক্তারকে সব উপসর্গ জানানো দরকার এবং রোগীকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ রাখা জরুরি।
একজন হৃদরোগ চিকিৎসক জোর দিয়ে বলেন এই বার্তাটি মানুষ জানলে হয়তো কারো কারো জীবন বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।
মনে রাখবেন, “অন্যকে গোলাপ দিলে তার সৌরভ আপনার হাতেও থেকে যায়”!
জাযাকাল্লাহ্ খায়রান। মহান আল্লাহ আমাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
