দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে হচ্ছে এবারের দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরীতেই ২৫৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দির মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা জানান, এবারের পূজার কিছু বিশেষত্ব আছে। এবারের পূজার প্রধান বিশেষত্ব হলো সরকার আমাদের যে দীর্ঘদিনের দাবি পূজার ছুটি কমপক্ষে তিন দিন সেটি পূরণ করেছেন। বিশেষত্ব হলো এবারের পূজার ছয় দিন। অন্যান্য বছর পূজা থাকে পাঁচ দিন। এবার ছয় দিন। কারণ এবার সপ্তমী দুই দিন। বিশেষত্ব হলো পূজার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষত্ব হলো সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষত্ব হলো সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই নিরাপত্তার বিষয়ে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যাতে এবারে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয় সে ব্যাপারে সবাই সচেতন এবং আন্তরিক।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনও নিরাপত্তার শঙ্কা দেখছি না। বাকিটা পূজার সময় দেখা যাক। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আন্তরিকতাও আছে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৬১টি পূজার আয়োজন হয়েছিল। সে হিসেবে মহানগরে তিনটি পূজামণ্ডপ কমেছে। এছাড়া সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি। এর মধ্যে প্রতিমার পাশাপাশি ঘটে আয়োজিত পূজাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, দেবী বিসর্জন বিকাল ৩টায়। সারাদেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

সন্তোষ শর্মা বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা চাইবো, আপনারা জানেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে সমস্ত হামলা হয়েছে, বড় বড় ঘটনা ঘটেছে— রামুর ঘটনা, নাসিরনগরের ঘটনা, ২০২১ সালে কুমিল্লার ঘটনা, সুনামগঞ্জের ঘটনা এগুলোসহ যত বড় বড় ঘটনা হয়েছে আজ পর্যন্ত কোনও ঘটনার কোনও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। আমরা আজকের দিনেও আপনাদের মাধ্যমে সেসব ঘটনার সকল ঘটনার বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, সারা দেশে আনন্দঘন পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভক্তরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মণ্ডপে গিয়ে দেবীদর্শন ও পূজা-অর্চনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পূজা উদযাপন কমিটি ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।

শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমাজের সব স্তরের মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতাও কামনা করেছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেছেন, যা দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে। মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুই দিন মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দুর্গা দেবী। এবার দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নেবেন নৌকায়।

আরো