নগদকে ধ্বংস করার নতুন আরেক ষড়যন্ত্র!
[ঢাকা: অক্টোবর ০২, ২০২৪, বুধবার]দেশের অন্যতম সেরা মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠান নগদকে ধ্বংস করার নতুন আরেকটি প্লট সাজিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্রান্তকারী পক্ষ। আর এক্ষেত্রে এবার তারা ভর করেছে সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের ওপর।
সম্প্রতি আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল নগদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল একটি চিঠি পাঠায় যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমুহের পরিদপ্তরকে। অথচ গত কয়েক বছর টানা ভ্যাট প্রদানের কারণে নগদ লিমিটেড জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বারা পুরস্কৃত হয়েছে। আর পাঁচ বছরের মধ্যে লাভজনক না হওয়ায় অন্য কর্পোরেট ট্যাক্স নগদের ওপর কার্যকর নয়। এমন পরিস্থিতিতে এই স্থগিতাদেশ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা বিস্মিত হয়েছেন।
নগদ লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডাররা বলছেন, নগদ যে সঠিকভাবে নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করেছে তার প্রমাণ জাতীয় রাজষ্ব বোর্ডের কয়েকবারের পুরস্কার। গত ডিসেম্বরে ভ্যাট দিবসেও সেবা খাতের শীর্ষ ভ্যাট প্রদানকারী কোম্পানি হিসেবে রাজস্ব বোর্ড নগদকে পুরস্কৃত করেছে। আবার নগদ লিমিটেডের ওপর অন্যান্য কর প্রযোজ্য নয়। কারণ নগদ এখনো লাভের মুখ দেখেনি।
নগদ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা তানভীর এ মিশুক বলেন, “এটি একটি অবাস্তব ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ভ্যাট প্রদানে বরবার পুরস্কার পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিভাবে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ ওঠে? সব দেখে মনেহচ্ছে, একটা মগের মুল্লুকে এসে পড়েছি। গ্রাহকদের ভালোবাসায় বড় হওয়া নগদকে ধ্বংস করার জন্যে একটি পক্ষ ধারাবাহিকভাবে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।”
প্রতিষ্ঠার তৃতীয় বছরেই দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান হয় নগদ। সেবার ২০২০-২১ অর্থবছরে সেরা ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে নগদের নাম আসায় সংশ্লিষ্ট সকলে প্রতিষ্ঠাটির প্রশংসা করেন। গত বছর ডিসেম্বরে ২০২১-২২ অর্থবছরের সেরা ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয় নগদ। আর ২০২২-২৩ অর্থ বছরের সেরা ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে এবারও নগদ শীর্ষ তালিকায় থাকবে।
গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক নগদে প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানটির বোর্ডও বিকাশ সংশ্লিষ্ট লোকদের দিয়ে পুনগঠন করা হয়েছে। কিন্তু দুটো ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটানোর কারণে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুটো ঘটনাকেই কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে উচ্চ আদালত রুলিংও জারি করেছে। অর্থ মন্ত্রনালয়কেও এক্ষেত্রে পক্ষভূক্ত করেছে আদালত।
বিষয়গুলো যখন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে তখন নগদের নাম যুক্ত করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আরেকটি বিতর্কপূর্ণ চিঠি ইস্যু করানোটা গভীর কোনো ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনেকরেন তানভীর এ মিশুক। তিনি বলেন, “নগদের প্রসারের কারণে একটি পক্ষের ব্যবসায়িক মনোপলি গত কয়েক বছরে ভেঙে গেছে। এই পক্ষটি নগদকে দমিয়ে দিতে নানান তৎপরতা চালাচ্ছে। এটি সেই চক্রান্তেরই আরেকটি রূপ ছাড়া অন্য কিছুই নয়।“
নতুন নতুন উদ্ভাবন দিয়ে গত পাঁচ বছরে নগদ সাড়ে নয় কোটি গ্রাহকের অপারেটর হিসেবে গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালোবাসার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
