“পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিকল্প নেই: বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান”

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক অনুপাতে) পদ্ধতির কোন বিকল্প নেই।”

আজ বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত “জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখা যায় না। এতে পেশীশক্তি ও অবৈধ প্রভাবের সুযোগ থেকে যায়। এছাড়া স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের ভোট মূল্যায়িত হয় না, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।” তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নে আরপিও সংশোধনের আহ্বান জানান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুর রব। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসপিএস-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মো. মিজানুর রহমান।

সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “জুলাই বিপ্লব জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক অর্জন। তাই জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে আগামী নির্বাচন এর ভিত্তিতেই আয়োজন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার যদি জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি না দেয়, তবে তা নিজেই অবৈধ হয়ে পড়বে।”

মূল প্রবন্ধে ড. মিজানুর রহমান বলেন, “জুলাই সনদকে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসাবে রাখা যাবে না। এটি সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশ ঘটবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ড. ফিরোজ আহমেদ, মেজর (অব.) ড. ইউনুস আলী, প্রফেসর রুহুল আমিন, ডা. আসাদুজ্জামান কাবুল, কর্ণেল (অব.) আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম জিয়াউল হাসান, এবং সাবেক সচিব শেখ এ কে মোতাহার হোসেন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আব্দুর রব বলেন, “পিআর পদ্ধতি একটি বৈজ্ঞানিক ও অধিকতর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি। বিশ্বব্যাপী বহু দেশ এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করার।”

আরো