বিভিন্ন ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে~ জীবন ও মৃত্যু একে অপরের পরিপূরক:

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

বিভিন্ন ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে জীবন ও মৃত্যু একে অপরের পরিপূরক এবং মৃত্যুর পরেও অস্তিত্ব বজায় থাকে। ইমাম গাজ্জালী মৃত্যু সম্পর্কে বলেন- “মানুষ ঘুমন্ত, মৃত্যু তাকে জাগিয়ে তুলে”।
হিন্দুধর্মে এটি পুনর্জন্মের চক্রের অংশ, যেখানে বৌদ্ধধর্মে এটি জ্ঞানার্জনের একটি প্রক্রিয়া। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মতো আব্রাহামিক ধর্মগুলোতে মৃত্যুর পরে বিচার, স্বর্গ ও নরক অথবা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তনের ধারণা রয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম অনুযায়ী জীবন ও মৃত্যুর ধারণা:
ইসলাম: জীবন হলো পরকালের জন্য একটি প্রস্তুতি, যেখানে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে পুরস্কার ও অবাধ্যতার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। মৃত্যু জীবনকে শেষ করে না, বরং এটি একটি পরিবর্তন যা শেষ বিচারের দিনের দিকে নিয়ে যায়। মহান আল্লাহ্ বলেন- “তিনি সেই সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করা হয়—কে তোমাদের মধ্যে উত্তম কর্ম করে।” — [সূরা আল-মুলক, আয়াত:২]
উপরোক্ত আয়াতের আলোকে বলা যায়-
১) জীবন: একটি পরীক্ষা।
২) মৃত্যু: পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময়।
খ্রিস্টধর্ম: মৃত্যুকে পরকালের দিকে একটি রূপান্তর হিসেবে দেখা হয়, যেখানে বিশ্বাস ও কাজের ওপর ভিত্তি করে ঈশ্বরের বিচার হয় এবং স্বর্গ বা নরক নির্ধারিত হয়।
হিন্দুধর্ম: মৃত্যুকে পুনর্জন্ম চক্রের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা আত্মাকে আধ্যাত্মিক বিবর্তনের পথে চালিত করে।
বৌদ্ধধর্ম: জীবনকে অস্থির এবং পরিবর্তনশীল হিসেবে দেখা হয় এবং মৃত্যুও এই চক্রেরই অংশ। বৌদ্ধধর্মে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে এই চক্র থেকে মুক্তি লাভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইহুদি ধর্ম: মৃত্যুকে একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয় যা ঈশ্বরের নিয়মে ঘটে। অনেক ইহুদি মনে করেন যে মৃত্যুর পর আত্মা ঈশ্বরের কাছে ফিরে যায়।
জীবন ও মৃত্যু পরস্পর পরিপূরক: ইসলামে যেমন দিন ও রাতের মতো জীবন ও মৃত্যু একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।
অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা: বেশিরভাগ ধর্মবিশ্বাস মনে করে যে মৃত্যুর পরও আত্মার অস্তিত্ব থাকে, যা কখনও কখনও নতুন জীবনে বা পরকালে বিদ্যমান থাকে।
বিচার ও পুরস্কার: একেশ্বরবাদী ধর্ম যথা ইহুদি খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম। এসব ধর্মের অনুসারীগণ ইব্রাহিম আঃকে তাদের আদি-পিতা বা প্রধান নবী হিসেবে সম্মান করে। তাদের ধর্মমতে মৃত্যুর পরের জীবনে বিচার এবং কৃতকর্মের ফলস্বরূপ পুরস্কার বা শাস্তির ধারণা রয়েছে।
“হা হাম ছাব মুসাফির হ্যাঁয়
ওহী আখের ঠিকানা
কুই আগে রওয়ানা হ্যাঁয়,
কুই পিছে রওয়ানা!”
হযরত লুকমান আঃ তার সন্তানকে দেয়া ৪টি উপদেশ:
“হে আমার ছেলে! আমি তোমাকে ৪ হাজার নসিহতের মধ্যে থেকে বাচাই করে ৪টি নসিহত করছি, এর মধ্যে তুমি ১টি ভুলে যাবে বাকি ৩টি মনে রাখবে। যেটি ভুলে যাবে সেটি হলো তুমি কি নেকি করেছো।আর যে ৩টি মনে রাখবে, সেগুলো হলো-
(১) তোমার রবকে মনে রাখবে।
(২) তোমার গুনাহ গুলোকে মনে রাখবে।
(৩) তোমার মৃত্যুকে মনে রাখবে।

আরো