কক্সবাজারের ডিসি, এসিল্যান্ডের সই জাল করে ভূয়া খতিয়ান
খুরুশকুল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের ডিসি, এসিল্যান্ডের সই জাল করে ভূয়া খতিয়ান সৃজনের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিচ্ছেন জমির দাবীদার রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের আমির হোসেনের পুত্র নুরুল ইসলাম। প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজিম উদ্দিনের বাড়ী রাঙুনিয়া মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদরের উত্তরণ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন কাটাপাহাড়ে বসবাস করেন।
নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কোন ক্রয় দলিল/ডিক্রি না থাকা সত্বেও মোঃ নাজিম উদ্দিনসহ অপরাপর ৬ জন ঝিলংজা মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত বিএস ১৭১৩১ দাগের ৫৬ শতক খাস জমি দখল করে ভূয়া খতিয়ান নং ১২৩৬৫ সৃজন করেন। খতিয়ানের অপর অংশীদার মো: হেলাল উদ্দিন, পিতা জয়নাল আবেদিন, সাং লাক্ষ্যারচর, চকরিয়া, ফজল কাদের নুরী,পিতা নুর আহমদ, সাং টেকপাড়া, সমসাদ বেগম, স্বামী জাকের হোসাইন সাং মাতারবাড়ী, বেবি ইয়াসমিন, পিতা হাফেজ আহমেদ, সাং গর্জনিয়া, রামু; আবুল বশর, পিতা- আব্দুর রহমান, সাং সিনেমা রোড, কক্সবাজার ; ফরিদুল শাহিন, পিতা- বশির আহমেদ, সাং হাসপাতাল পাড়া, চকরিয়া তাকে এই কাজে অর্থ যোগান দেন।
অভিযোগকারী মো: নুরুল ইসলাম জানান, ঝিলংজা মৌজার আর এস ১৮১০ নং খতিয়ানের এস আর আর ২১২৮ নং খতিয়ানের আর এস ৮২৬৩/ ৮৬২০ ও আর এস ৮২৫৯ দাগাদীর মোয়াজি ১.৭৮ একর জমির তুলনামূলক বি এস ১ নং ও ১২১ নং খতিয়ানের বিএস ১৭১৩১, বিএস ১৭৫৮১ বিএস ১৭২২০ দাগাদীর সর্ব মোট ১.৭৮ একর জমির সত্ত্ব নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা নং ৮২২/ ২০০২ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিরোধীয় জমি নিয়ে রাজিয়া হক স্বামী ওবায়দুল হক, সূর্য কুমার মালী গংদের সিভিল রিভিশন নামলা নং ১৩১/২০০৭ মহামান্য হাইকোর্টে চলমান রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার এসিল্যান্ড অফিসের একটি দুর্ণীতিবাজ চক্র ১০/ ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ভূয়া খতিয়ান নং ১২৩৬৫ সৃজন করেন। এই দুর্নীতিবাজ চক্রের মূল হোতা সাবেক এক কানুনগো। তারই সহযোগিতায় দুর্নীতিবাজ চক্রটি ডিসিআর তৈরি করে কম্পিউটার সার্ভারে ভূয়া এন্ট্রি দিয়ে দাখিলা কাটান।
এসিল্যান্ড অফিসের বালাম তল্লাশি করে দেখা যায়, ঝিলংজা মৌজার খতিয়ান নং ১২৩৬৫ এর জেএল নং ১৭। মালিকের কলামে মো: নাজিম উদ্দিনসহ ৭ জনের নাম লিপি আছে। ১ নম্বরে রয়েছে জনৈক হেলাল উদ্দিনের নাম। দাগের কলাম আছে বিএস ১৭১৩১/৩৭৮২৩ দাগ।৷ জমির শ্রেণী পানবরজ। দাগে মোট জমির পরিমান ৭১.৫৬ একর।খতিয়ানে জমির মালিকগণের অংশ দেখানো হয়েছে ৫৬ শতক। সদর ভূমি অফিসের সাবেক কানুনগো সুচিত্ত চাকমা ১২/৬/ ২০১৪ ইং তারিখে খতিয়ানে স্বাক্ষর করেন। খতিয়ানে স্বাক্ষর রয়েছে রেকর্ড কিপার জসিম উদ্দিন, উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী পরিমল দে ও সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরিয়ার মুক্তারের।
খতিয়ানের নোটে দেখা যায়, ” রেকর্ড সংশোধনী মিচ মামলা নং ০৬ (II) ” ২০১০ -১১ এর উপর জেলা প্রশাসক কক্সবাজার ও সহকারী সহকারী কমিশনার ভূমির ১২/ ৬/২০১৪ ইং তারিখের আদেশ মোতাবেক বিএস ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ১৭১৩১ দাগের আন্দর ০.৫৬০০ একর জমি নিয়ে রেকর্ড সংশোধন মূলে ১২৩৬৫ নং খতিয়ান সৃজন করা হলো। এবং ১৪২০ বাংলা সনের ১ লা বৈশাখ হতে জমাভাগ করা গেল”।
এই প্রতিবেদকের সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, রেকর্ড সংশোধনী মিচ মামলা নং নং ০৬ (II) ” ২০১০ -১১ নামক কোন মিচ মামলার অস্তিত্বই নেই। জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার ভূমিসহ যেসব স্বাক্ষর রয়েছে তার সবই জাল।
জমির মূল মালিক দাবিদার নুরুল ইসলাম গং সাংবাদিকদের জানান খতিয়ানে উল্লেখিত মোঃ হেলাল উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক মো: নাজিম উদ্দিন সহ ৭ জনের কোন ক্রয়,বায়না বা হেবা দলিল নেই।
এই ৭ জনের কিংবা তাদের পূর্ব পুরুষদের নামে কোন আরএস/ এম আর আর খতিয়ানও নেই।
প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন গং এই জমি নিয়ে কোন সিভিল মামলাও দায়ের করেননি।কোন রায় ডিক্রীও হাসিল করেননি। অভিযুক্ত শিক্ষক মো: নাজিম, ফজল কাদের নুরী পরষ্পর আত্মীয় বলে একটি সূত্র জানায়। তাদের প্লট পাশাপাশি। ভূয়া খতিয়ানে উল্লেখিত অন্যদের প্লট কোথায় তা অনুসন্ধান চলছে। তবে তা কাটা পাহাড় এলাকার ভেতরে বলে জানান অভিযোগকারীরা। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো: নাজিমের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও অনৈতিক কর্মকান্ডের পূর্ব অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষানুরাগী আবু তাহের ১৯৬৮ সালে খুরুশকুল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটি কক্সবাজার শহর সংলগ্ন ইউনিয়ন খুরুশকুলের ৪ নং ওয়ার্ডের ফকির পাড়ায় অবস্থিত। স্কুলের শিক্ষাবোর্ড কোড নং -৪২৫৩, এমপিও কোড নং-০৩১২০১১৩০১।