জলমহাল দখল ও ভরাট করে বসতবাড়ী নির্মাণের অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার খড়েরা ইউনিয়নের দেলী গ্রামে সরকারি খাস খতিয়ানের জলমহাল দখল, ভরাট ও বসতবাড়ী নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস খতিয়ানের জলমহাল ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগী ও পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও আইনি লড়াই চালিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালে আদালতের মাধ্যমে উক্ত জায়গা দখলমুক্ত করতে সক্ষম হন।
তাজুল ইসলামের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর উচ্ছেদের পর জলমহালটি পুনরায় সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের ৩ মার্চ কসবা উপজেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জুবায়েদ মুন্সী সেখানে প্রবেশ করে অবৈধভাবে দখল গ্রহণ করেন। তিনি দাবি করেন, জুবায়েদ মুন্সী তার জমির সীমানা খুঁটি ও বেড়া ভেঙে জলমহালের ভরাটকৃত অংশে প্রবেশ করে বসতবাড়ী ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, জলমহালটির সঙ্গে জুবায়েদ মুন্সীর নিজস্ব বাড়ি বা জমির কোনো সংযোগ নেই। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জলমহালটি পূর্ব থেকেই সরকারি ইজারাভুক্ত সম্পত্তি। পূর্বে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নতুন করে আবারও দখলের ঘটনা ঘটছে। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাধা দিতে গেলে জুবায়েদ মুন্সী হুমকি-ধমকি প্রদান করেন এবং মামলা-মোকদ্দমা ও সহিংসতার ভয় দেখান। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি জলমহাল দখল ও ভরাটের মাধ্যমে পরিবেশ এবং জলাধার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মোঃ জুবায়েদ মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি, খাল, বিল, জলাশয় ও জলমহাল অবৈধভাবে দখল, ভরাট বা জবরদখল করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এলাকাবাসী বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।