বাগেরহাটে মহিষপুরা-খুলনা বাস মালিক সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের মহিষপুরা-খুলনা আন্তজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ কমিটির বিভিন্ন পদের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাত ও নির্বাচন না করে পদ আটকে রাখাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।নিজেদের করা নানা অনিয়ম ঢাকতে সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাস মালিক ও সমিতির সদস্য শহিদুজ্জামান খান মিল্টন।
এসময়, সমিতির সদস্য আশিষ কুমার ঘোষ, সুরঞ্জিত কুমার দাস আরও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শহিদুজ্জামান খান মিল্টন বলেন, সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দাস বাবলু, কোষাধ্যক্ষ স্বপন দাস, মাসুদ শেখ এবং আতাহার আলী মন্টুসহ সমিতির কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন ধরে সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সদস্যদের দেয় না। ইচ্ছেমত সবকিছু করেন। নির্বাচন সংক্রান্ত কোন তথ্যও সাধারণ সদস্যদের জানানো হয় না। এমনকি এই সমিতিতে দীর্ঘদিন ধনে কোন বার্ষিক সাধারণ সভাও হয়নি।
শহিদুজ্জামান খান মিল্টন বলেন, সকল নিয়মকানুন মেনে সমিতির সদস্য হলেও, নেতাদের দৌরত্বের কারণে সমিতিতে নাম অন্তর্ভুক্তি এবং গাড়ি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। সমিতির এসব অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য গেল ১৪ জুন বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গেল ১৪ জুন খুলনার বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে গিয়ে জানতে পারেন যে, ১৫ জুন সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং এ জন্য তিন সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ সাধারণ সদস্য ও পরিবহন মালিক এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য জসিম খান নামের এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া গোপন রেখে কাগজে-কলমে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ও কয়েকজন মালিক পরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
১৫ জুন আসলেই ভোট হবে কি না সে বিষয়ে জানতে মিল্টনসহ কয়েকজন মালিক সমিতির বলভদ্রপুর সংলগ্ন অফিসে যান। কিন্তু নির্বাচনের জন্য কোন আয়োজন দেখতে পান না। সারাদিন ঘুরে বিকেলে সমিতির কোষাধ্যক্ষ স্বপন দাস অফিসে আসলে, ভোটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তখন স্বপন দাস বলেন “ভোটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না”। অথচ স্বপন দাসই সমিতির সকল অফিসিয়াল কাগজপত্র তৈরি ও জমা দিয়ে থাকেন। এসব নিয়ে কথাকাটাটির এক পর্যায়ে কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোড়েলগঞ্জ থানায় তারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুজ্জামান খান মিল্টন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে সমিতিটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের পালায়নের পর সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বিনয় দাস পালিয়ে যায়। কিন্তু মাসুদ শেখ, স্বপন দাস ও আতাহার আলী মন্টুসহ কয়েকজন বিভিন্নভাবে আতআত করে থেকে যায়। আর সমিতির সদস্যদের স্বার্থবিরোধী কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সমিতির কোন সদস্য যদি তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, লোক দিয়ে হামলা করানো এমনকি গাড়ির কোটা বাতিল করার চেষ্টা করেন। গুটি কয়েক নেতা নামধারী অর্থলোভী পরিবহন ব্যবসায়ীর কাছে মহিষপুরা-খুলনা আন্তজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ৭৩ জন সদস্য জিম্মি হয়ে পড়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সমিতির টাকায় তার নিজস্ব জমিতে সমিতির ভবন নির্মান করেছেন, যার ফলে সমিতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তদন্তপূর্বক এসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান।
নির্বাচন ও হিসাব সম্পর্কে সাধারণ সদস্যদের জানানো হয় কি না বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দাস বাবলু বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সমিতির সকল হিসাব ও অডিট রিপোর্ট রেজিষ্টার অব ট্রেড ইউনিয়নে জমা দেওয়া হয়। আর নির্বাচনে কোন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী না থাকায় নির্ধারিত দিনের আগেই তাদেরকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়েছে।