‘অনলাইন লোন’ এর ফাঁদ, তথ্য চেয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে সর্বস্ব

সারাদেশে ৫০০ থেকে ৬০০ জনের টিম‌ এই ব্ল্যাকমেইলের সাথে জড়িত

ক্রাইম রিপোর্টার এসএম কবির: সারাদেশে ৫০০ থেকে ৬০০ জনের একটি টিম এই ব্ল্যাকমেইলের সাথে জড়িত। তারা প্রতিনিয়ত লোনের লোভনীয় লোভ দেখিয়ে লোন না দিয়েই ভয় ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। আর এই টাকা দেশ থেকে হয়ে যাচ্ছে পাচার ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। এই অ্যাপসে কাজ করতো এমন একজনের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন এই অ্যাপসে আমরা ৫০০ থেকে ৬০০ জন লোক কাজ করতাম সারাদেশে। আমি এখন করি না, ছেড়ে দিয়েছি, যখন দেখলাম ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েই এই অ্যাপস এর কাজ।
ফেসবুক ওপেন করলেই এখন চোখে পড়ে “ঘরে বসেই, ১ ঘণ্টায় ৫০ হাজার টাকা লোন – এমন চটকদার বিজ্ঞাপন। সহজে লোনের লোভে পড়ে অনেকেই ক্লিক করছেন। আর এই সুযোগেই একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য নিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিজ্ঞাপনে দেওয়া লিংকে ঢুকলে বা মেসেঞ্জারে কথা বললেই তারা প্রথমে প্রসেসিং ফি” ছাড়াই লোন দেওয়ার কথা বলে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি, ব্যাংক একাউন্টের তথ্য, বিকাশ-নগদের পিন, এমনকি মোবাইলের গ্যালারি ও কন্টাক্ট লিস্টের এক্সেস চায়।
অনেকেই না বুঝে এসব তথ্য দিয়ে দিচ্ছেন। তথ্য পাওয়ার পর প্রতারকরা একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে, আবার কারও ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে অন্যদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। মিরপুরের পল্লবীতে লোন দেয়া অ্যাপসের টাকা নিতে এসে এলাকার কিছু মানুষের চোখে পড়ে। খবর পেয়ে আকাশবাণীর রিপোর্টার উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায় তিনি শিকার করেন এটি একটি ইন্ডিয়ান অ্যাপস, এর মাধ্যমে টাকা লোন দেয়া হয়। পরে তাকে বিএনপির দলীয় লোকজন এসে ওখান থেকে তাকে নিয়ে চলে যায়। এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, লোন কেউ পাক না পাক কিন্তু টোটাল মোবাইলের যত তথ্য সব চলে যায় এই সিন্ডিকেটের হাতে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, এগুলো ফিশিং অ্যাপ ও ভুয়া লোন কোম্পানি। তারা মানুষের আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নেয়। একবার NID, ব্যাংক ও বিকাশের তথ্য চলে গেলে সেই ডাটা দিয়ে আরও বড় প্রতারণা করা হয়।
প্রতারকদের ৩টি সাধারণ কৌশল
১.আগাম ফি “ইন্সুরেন্স ফি” বা “ভ্যাটের টাকা” নামে প্রথমে বিকাশে টাকা চাওয়া।
২.ডাটা চুরি লোন অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে ফোনের সব কন্টাক্ট, ছবি ও OTP হাতিয়ে নেওয়া।
৩.ভয় দেখানো তথ্য না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ
বাংলাদেশ ব্যাংক বা কোনো বৈধ ব্যাংক-এনবিএফআই কখনো ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে লোন দেয় না। লোনের জন্য কোনো “আগাম ফি” লাগে না। লোন নেওয়ার আগে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও ঠিকানা যাচাই করুন।

পুলিশের আহ্বান এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেখলে রিপোর্ট করুন এবং কোনো অবস্থাতেই NID, ব্যাংক তথ্য, OTP কাউকে দেবেন না। প্রতারিত হলে দ্রুত ৯৯৯ বা সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে অভিযোগ জানান।

আরো