১৩ বার উপজেলা শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনিরুলের অবসর
শিক্ষকতা জীবনে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে প্রাথমিক শিক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৩৪ নম্বর কামলা জিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম। দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে যাওয়ায় তাকে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শেফাইনুর অরেফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম ছিলেন দায়িত্বশীল, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ একজন শিক্ষক। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে তিনি শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার কর্মনিষ্ঠা ও অর্জন নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিদায়ী শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিক্ষক উম্মে কুলসুম, গড়ঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার মন্ডল, বর্শিবাওয়া কে.জে. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন, কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিয়া খানম, পশ্চিম কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী শিক্ষক শেখ আলী আফসার, স্যামা প্রসাদ মন্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান এবং সমকাল প্রতিনিধি ফজলুল হক খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কর্মজীবনে মো. মনিরুল ইসলাম উপজেলা পর্যায়ে ১৩ বার, জেলা পর্যায়ে ৫ বার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ২ বার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তিনি মোরেলগঞ্জের জন্য গৌরব বয়ে আনেন।
এছাড়া শ্রেষ্ঠ গুণী প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথি ও সহকর্মীরা বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন। এ সময় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায়ে অনুষ্ঠানে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
