আর কত নির্যাতনে মুসলিম নেতৃত্ব জেগে উঠবে

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

মুসলমানদের কাছে “ইব্রাহিমি মসজিদ”
ইহুদিদের কাছে “কেভ অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস” ফিলিস্তিনের হেবরনে অবস্থিত- আমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ) ও ইয়াকুব (আঃ)-এর সমাধিস্থল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দখলদার ইসরাইলী বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।২০২৬ সালের জুন মাসে ইসরাইলের চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) হাত থেকে এই ক্ষমতা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এর মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ‘হেবরন চুক্তি’র ওই অংশটি কার্যতঃ বাতিল হয়ে গেছে, যা এতদিন মসজিদ প্রাঙ্গণের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফিলিস্তিনি পৌরসভাকে দিয়েছিল; মুসলিম বিশ্ব একদম চুপ।
ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর সাথে সাথে আরবলীগ ও ওআইসির দাফন হয়ে গেছে। জাতিসংঘ তথৈবচ- আমেরিকা ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় নিবিষ্ট। আমাদের চরম সৌভাগ্য! জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি একজন বাংলাদেশী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস বক্তব্য দেয়ায় আমরা উৎফুল্ল অথচ ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বিশ্বসন্ত্রাসী নেতানিয়াহু বক্তব্য দেয়ার সূযোগ পাওয়ায় আমরা বিষন্ন। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজাল যেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অন্তরায়। সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের অন্তত ২০টি শহর ও গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বাড়িঘর ধ্বংস এবং বহু ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করাসহ একটি জাতিসংঘ স্থাপনাতেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলাও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
( কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা)।
একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম নেতৃত্ব বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
আর বাংলাদেশের অবস্থা আরো ভয়াবহ- যেসব ইসলামপন্থী সংগঠণ বা ইসলামী ব্যক্তিত্ব ইসরাইল বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল তারা নিজেদের মধ্যে দলাদলি নিয়ে ব্যস্ত।
প্রতিবাদের পথ দেখিয়ে যেসব ইসলামপন্থীর দেশে-বিদেশের নানা অপকর্ম, অন্যায় ও অবিচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল তারা আজ নিজেদের মাঝে চরম অন্তদ্বন্দ্ব ও আত্মকলহে লিপ্ত। মাসজিদের মিম্বরে বসে যেসব দ্বীনি ব্যক্তিত্ব মুসলিম মানসে ঐক্য ও সম্প্রীতির বয়ান দেয়ার কথা ছিল তাদের ভাষায় আজ বিভাজনের সুর!
বিশ্বাসবোধের মানবিক দর্শনে আস্থাশীল, সকল প্রকার অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পিয়াসী কবি নজরুল ইসলাম-যিনি স্বয়ং ফতোয়াবাজদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন বহুবার; এবং আমাদের ‘দুর্ভাগা দেশের’ সমাজসত্য যাঁর কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে অবিসংবাদিতভাবে, তাঁর অমর কাব্যবাণী দিয়েই এ-লেখা শেষ করা গেল :
“বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে
আমরা তখনো বসে,
বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি
ফিকাহ ও হাদীস চষে।
হানাফী, শাফিঈ, মালিকী, হাম্বলীর
তখনো মেটেনি গোল,
এমন সময় আজরাইল আসি
হাঁকিল তলপি তোল।
বাহিরের দিকে মরিয়াছি যত
ভিতরের দিকে তত,
গুণতিতে মোরা বাড়িয়া চলেছি
গরু ছাগলের মতো।”

আরো